১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ মিশনে নীল আর্মস্ট্রং যখন চাঁদের বুকে প্রথম পা রেখেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, 'এটি একজন মানুষের জন্য ছোট একটি পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।' কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ছাপ আজও চাঁদের বুকে ঠিক তেমনই আছে যেমনটা ৫৬ বছর আগে ছিল এবং বিজ্ঞানীদের মতে, এই পায়ের ছাপ আগামী ১০ থেকে ১০ কোটি বছর পর্যন্ত অবিকৃত থাকতে পারে।
পৃথিবীতে আমরা সমুদ্রসৈকত বা মরুভূমির বালুর ওপর দিয়ে হাঁটলে বাতাসের ঝাপটায় বা পানির স্রোতে সেই পায়ের ছাপ মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়। কিন্তু চাঁদের পরিবেশ পৃথিবীর মতো নয়, সেখানে প্রকৃতি ও সময় যেন থমকে আছে।
চাঁদে মানুষের পায়ের ছাপ বা রোভারের চাকার দাগ না মোছার প্রধান কারণ হলো চাঁদের কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। বায়ুমণ্ডল না থাকায় সেখানে কোনো বাতাস প্রবাহিত হয় না, কোনো ঝড় হয় না এবং কোনো বৃষ্টিপাতও হয় না। পৃথিবীতে বাতাস এবং পানি মাটির ওপরের স্তরের ক্ষয় বা পরিবর্তন ঘটায়, যাকে আমরা ‘ইরোশন’ বলি। কিন্তু চাঁদে এই ক্ষয়ের কোনো সুযোগ নেই।
ফলে মহাকাশচারীরা যে ধূলিময় পৃষ্ঠে হেঁটেছিলেন, তা প্রাকৃতিকভাবে নড়াচড়া করার কোনো উপায় নেই। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার লুনার রিকনিসন্স অরবিটার সম্প্রতি যেসব ছবি পাঠিয়েছে, তাতেও দেখা গেছে অ্যাপোলো মিশনের সময় ফেলে আসা যন্ত্রপাতি এবং পায়ের ছাপগুলো ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে।
তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এগুলো একেবারে অনন্তকাল টিকে থাকবে না, যদিও সেই সময়সীমা মানুষের কল্পনারও বাইরে। চাঁদের বুকে প্রতিনিয়ত মহাজাগতিক ধূলিকণা বা মাইক্রোমেটিওরয়েড আঘাত হানে। এছাড়া সূর্যের সৌরবায়ুর প্রভাবও রয়েছে। এই অতি ক্ষুদ্র উল্কাপিণ্ডগুলোর ক্রমাগত আঘাতের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে খুব ধীরগতিতে ক্ষয় হয়।
এই প্রক্রিয়াটি এতটাই ধীর যে, মানুষের সেই পায়ের ছাপ সম্পূর্ণ মুছে যেতে ১০ কোটি বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। অর্থাৎ, কোনো বড় উল্কাপাত না হলে মানব সভ্যতার সেই চিহ্ন চাঁদের বুকে কোটি কোটি বছর ধরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে।
ডিবিসি/এনএসএফ