চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া পোড়াগ্রামে সমাজ সংস্কারের নামে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় মসজিদ কমিটি। এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানে গান বাজলে সেখানে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে পড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আলেম সমাজ। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বাধীনচেতা মানুষেরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি জারি করা এই অদ্ভুত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে গ্রামের সামাজিক আচার ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানিরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা এখন দোকানে কিংবা টিভিতে গান বাজান না। ফেরিওয়ালাদেরও গ্রামে প্রবেশের সময় বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সতর্ক করে গ্রামে ফেস্টুনও টাঙানো হয়েছে। বিয়ে বাড়িতে গান বাজলে ওই গ্রামের ইমামরা বিয়ে পড়াতে যাবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
জানা গেছে, স্থানীয় কিছু আলেম ও মাতব্বরদের স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তেররশিয়া জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল মালিক-বিন খালেদুর রহমান গ্রামে কোনো প্রকার গান-বাজনা বা বাদ্যযন্ত্র চালানো যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে মসজিদের মাইকে আজান ছাড়া মৃত্যু সংবাদ একবারের বেশি প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে এই ইমাম জানিয়েছেন।
গ্রামের প্রবীণদের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন জানান, দেশের প্রচলিত আইনে নির্দিষ্ট ডেসিবলের মধ্যে শব্দ ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও কোনো গোষ্ঠী বা কমিটি দ্বারা তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ জানান, মসজিদ কমিটি বা যেকোনো কমিটির মাধ্যমে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করার কোনো সুযোগ বা আইনি বিধিবিধান নেই।
সংস্কৃতি বনাম অপসংস্কৃতি এই তর্কের আড়ালে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না, পোড়াগ্রামে এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্ধকার দূর করতে গিয়ে সমাজ যেন কোনো নতুন সংকটে না পড়ে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার তাগিদ দিয়েছে সচেতন মহল।
ডিবিসি/পিআরএএন