সীমান্তবর্তী জেলা আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে নাবি জাতের আরও একটি নতুন জাতের আমের দেখা মিলছে।
তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রের নামানুসারে 'ইলামতি' নাম রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন আমের। গোমস্তাপুর ও নাচোলে সন্ধান পাওয়া গেছে মৌসুমের শেষ দিকের আমটির। নাবি জাতের আমগুলোর মধ্যে এটি সম্ভাবনাময় মনে করছেন কৃষিবিদরা। আর অসময়ের আম,তাই ভাল দামও মিলছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের আশরাফুল আলম। অন্যান্য আমের পাশাপাশি ২০ থেকে ২৫ বছর আগে পুরনো গুটি জাতের আমের কলম করে নতুন নাবি জাতের ১০-১৫টি আমগাছ বড় করেন। যেগুলো দ্বিতীয় প্রজন্মের।
তার কাছ থেকে কলম নিয়ে বরেন্দ্রভূমিতে ১৮০টি এবং সদর উপজেলার আমনুরায় ১শ'টির বেশি গাছ দিয়ে তৃতীয় প্রজন্মের আম বাগান করা হয়। এতদিন নামহীন গুটি জাত হিসেবে ছিল আমটির পরিচিতি।
সুমিষ্ট ও নাবি জাতের এই আমের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় আম চাষীদের মাঝে। অসময়ে আমের চাহিদা ও বাজারে ভাল দাম পাওয়ায় সাড়া পড়েছে যথেষ্ট ।
আম চাষী আশরাফুল আলম বলেন, 'এখন তো আম আর কোন জায়গাতেই পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের এলাকাতে এই আম নতুন। তবে এই আমের চাহিদা অনেক বেশি। আমি আম দিয়ে নিজে চারা তৈরি করেছি। অসময়ে জন্ম হলেও আমটা অনেক ভালো।'
মাঝারি আকৃতির এই আমটির গড় ওজন ৪শ' থেকে সাড়ে ৪শ' গ্রাম। গবেষকরা বলছেন, সুস্বাদু হওয়ায় অসময়ে আম নিয়ে আশাবাদী তারা ।
উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম বলেন, 'যেহেতু আমটা সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাওয়া যায়। দামে ভালো হওয়ায় এই আমটা কৃষকের জন্য লাভবান। শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে, মানে আমটা ঝরার পরিমান কম।'
স্থানীয় হর্টিকালচার সেন্টার, আম গবেষনা কেন্দ্র ও কৃষি বিভাগের গবেষক নতুন জাতের আমটির নাম প্রস্তাব করেছেন ‘ইলামতি’।
উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মোজদার হোসেন বলেন, 'ইলা মিত্র কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তার নামের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য আমরা ইলা শব্দটা নিয়েছি। মতি শব্দটা মূল্যবান, যেটির সমন্নয়ে আমরা ইলামতি নাম দিয়েছি আমটির।'
বছরব্যাপী যাতে আমের চাহিদা পুরণ করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করছেন আম গবেষকরা।