চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শংকরবাটি ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয়ের টিফিনে সরবরাহ করা পাউরুটি ও ডিম খাওয়ার পরপরই দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসুস্থতা ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তাদের বমি বমি ভাব, তীব্র পেট ব্যথা ও চোখে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে তাদের অভিভাবকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বাড়িতে বা হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।
শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই অত্যন্ত নিম্নমানের ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার সরবরাহ করা হচ্ছিল। বিষয়টি খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা ‘গাক’-কে একাধিকবার জানানো হলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেনি। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বারবার অভিযোগ করার পরও নিম্নমানের খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়নি, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে আজ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গাক’-এর কর্মকর্তাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, জেলার চারটি উপজেলার ২১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এই ফিডিং কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পাউরুটি, দুধ ও ডিমসহ বিভিন্ন নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিবিসি/টিবিএ