চাঁপাইনবাবগঞ্জে টানা ৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর পদ্মা নদী থেকে শওকত আলী (২৮) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শওকত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঠাপাড়া গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে রাতে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল সদর উপজেলার জহুরপুরটেক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গরু আনতে যায়। এরপর থেকেই শওকত আলী নিখোঁজ ছিলেন। গতকাল শনিবার বিকেলে ৫৩ বিজিবির ফরিদপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় জেলেরা সেটি উদ্ধার করে। পরে সন্ধ্যায় তার পরিবারের লোকজন কাউকে কিছু না জানিয়ে মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে এসে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সমির উদ্দীন ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের নির্যাতনে শওকতের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে এবং পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে।
গোদাগাড়ী নৌ পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক জীবন চন্দ্র রায় জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহে কোনো গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে তার হাত, পা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিভিন্ন সূত্রে তারা জানতে পেরেছেন শওকত গরু আনতে ভারতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের সহায়তায় নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। তবে সীমান্ত পারাপার বা মৃত্যুর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিজিবির কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে আজ সন্ধ্যায় তা পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে।
ডিবিসি/আরএসএল