বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার দিকে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি কমিটি আলোচনার জন্য একটি খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সংশ্লিষ্ট খসড়া চুক্তি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং বিভিন্ন ধরনের মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ইউএভি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরেই এসব ক্রয়প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হতে পারে। অর্থসংস্থান না হলে বিষয়টি পরবর্তী অর্থবছরের বাজেটে স্থান পেতে পারে।
বাংলাদেশ কতটি জে-১০সিই কিনতে চায়, সম্ভাব্য চুক্তির মূল্য কত হবে কিংবা বিমানগুলো কবে সরবরাহ করা হতে পারে এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এসব বিষয় পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ২৪টি জে-১০সিই কেনার বিষয় বিবেচনা করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্ভাব্য এ ক্রয় বাস্তবায়িত হলে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত দুই দশকে যুদ্ধবিমান, নৌযান, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বাংলাদেশকে সরবরাহ করেছে চীন এবং বর্তমানে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী।
চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপ নির্মিত জে-১০সিই হলো জে-১০সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ। পাকিস্তান বর্তমানে এ সংস্করণের একমাত্র নিশ্চিত বিদেশি ব্যবহারকারী।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের পর বিমানটি আন্তর্জাতিকভাবে নতুন করে আলোচনায় আসে। পাকিস্তান দাবি করেছিল, ওই সংঘর্ষে চীনা নির্মিত জে-১০সিই ব্যবহার করে ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল। তবে সংঘর্ষে ঠিক কোন অস্ত্র বা প্ল্যাটফর্ম দিয়ে কতটি বিমান ধ্বংস করা হয়েছিল এ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে এবং জে-১০সিইর ভূমিকা নিয়ে কিছু দাবি এখনো বিতর্কিত।
জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রতিবেশী অঞ্চলের সাম্প্রতিক সংঘাতে চীনা যুদ্ধবিমানের যে পারফরম্যান্সের খবর এসেছে, বাংলাদেশ তা বিবেচনায় নিয়েছে। তিনি ইউরোপীয় রাফাল ও ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো যুদ্ধবিমানের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমান তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে বর্তমানে চীনা নির্মিত এফ-৭ পরিবারের বেশ কিছু যুদ্ধবিমান রয়েছে। ভবিষ্যৎ আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, বহুমুখী যুদ্ধ পরিচালনা এবং আধুনিক অস্ত্র ও সেন্সর ব্যবস্থার প্রয়োজন বিবেচনায় নতুন প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জে-১০সিই ক্রয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে বিমানবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বিমান সংখ্যা, অস্ত্র প্যাকেজ, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অর্থায়ন ও সরবরাহের সময়সূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো আলোচনাধীন। ফলে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত হলেও পুরো ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কয়েকটি সরকারি ও কূটনৈতিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এমএনকে