চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে আঘাত হানা তীব্র ঝড় ও বজ্রপাতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসের সতর্কতা জারি করেছেন আবহাওয়াবিদরা। চরম এই আবহাওয়ার কারণে দেশটির প্রায় ২০ কোটি মানুষ ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
বার্তা সংস্থা সিনহুয়া হুবেই প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে হুবেই প্রদেশের হুয়াংশি, হুয়াংগাং, ইঝৌ এবং শিয়াননিং শহরের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪৯ কিলোমিটার বেগে তীব্র ঝড় বয়ে যায়।
অভ্যন্তরীণ এই ঝড়-বৃষ্টির পাশাপাশি চীন এখন কাঁপছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’র আতঙ্কে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট এই শক্তিশালী টাইফুনটি বর্তমানে তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার গুয়াম, তিনিয়ান, সাইপান এবং রোটা দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করার সময় টাইফুন বাভির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮০ মাইল (প্রায় ২৯০ কিমি)।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গুয়াংশি এবং পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু ও শানডং প্রদেশে সর্বোচ্চ ২৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে পার্বত্য এলাকায় মারাত্মক ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় টর্নেডো আঘাত হানতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ঝড় ও বৃষ্টির কবলে পড়া হুবেই এবং শানডং প্রদেশ দুটি চীনের প্রধান কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আকস্মিক এই দুর্যোগের ফলে ওই অঞ্চলের ভুট্টা, চীনাবাদাম এবং রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে চীনে এই ধরণের চরম আবহাওয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ঘন ঘন বন্যা, আকস্মিক ঝড় ও তীব্র তাপদাহের কারণে চীনের নগরজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এই জলবায়ুজনিত চরম আবহাওয়ার কারণে প্রতি বছর চীনের শত শত কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/এসএফএল