দক্ষিণ ও মধ্য চীন জুড়ে মঙ্গলবারও প্রবল বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সৃষ্ট এই বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে স্কুল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পরিবহন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চীনের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, জিয়াংজি, আনহুই, হুনান, হুবেই, গুইঝৌ, গুয়াংজি, গুয়াংডং এবং হাইনান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা এবং মারাত্মক পানিবদ্ধতার মতো দুর্যোগের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ১৫ কোটি ইউয়ান (প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার) বরাদ্দ দিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি এলাকায় জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।
চীনা ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ডাউইন-এ প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মধ্য হুবেই প্রদেশের জিংঝৌ শহরের অনেক বাসিন্দা হাঁটুসমান পানিতে আটকা পড়েছেন এবং কেউ কেউ রাস্তার জমে থাকা পানিতে মাছ ধরছেন। আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোর আশপাশের রাস্তায় অনেক গাড়ি প্রায় সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুয়াংজিতে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ১৫ জন কৃষিশ্রমিক বহনকারী একটি পিকআপ ভ্যান প্লাবিত নদীতে পড়ে গেলে ১০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া পৃথক ঘটনায় ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুইঝৌ প্রদেশে চারজন, মধ্য হুবেই প্রদেশের একটি নিচু গ্রামে তিনজন এবং দক্ষিণ হুনান প্রদেশে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় স্কুল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন সেবা স্থগিত করা হয়েছে এবং হুবেই ও হুনানের কিছু অংশ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণের কারণে ১,০০০ কিলোমিটারেরও (৬২১ মাইল) বেশি এলাকা জুড়ে এই অস্বাভাবিক ও তীব্র বৃষ্টিপাত হচ্ছে। চীনা আবহাওয়াবিদদের মতে, আবহাওয়া ব্যবস্থাটি ধীরগতির হওয়ার কারণে ক্রমবর্ধমান বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এতো বেশি হচ্ছে।
চীনের ন্যাশনাল মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে এই বৈরী আবহাওয়া ধীরে ধীরে চীনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হবে। বুধবার থেকে ইয়াংজি নদীর মধ্য ও নিম্ন অববাহিকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ হাইনানে ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। লিংশুই এলাকার একটি মহাসড়কে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ার পর কর্তৃপক্ষ ওই এলাকার কয়েকটি প্রধান সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
অন্যদিকে, সোমবার গুয়াংজিতে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ওই অঞ্চলের একাধিক শহরে কম্পন অনুভূত হয়। এর পরপরই কর্তৃপক্ষ ৪ হাজারেরও বেশি বাসিন্দার জন্য ৯৯টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে এবং ৭ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এসএফএল