আন্তর্জাতিক

চীন অবৈধভাবে ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের ফাইল হাতিয়ে নিয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মার্কিন নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি। এক প্রাইম-টাইম ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বেইজিং অবৈধভাবে ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের অত্যন্ত সংবেদনশীল ফাইল হাতিয়ে নিয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি নির্বাচন নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের আক্রমণাত্মক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন। তবে ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর দাবি খোদ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

গতকাল বৃহস্পতিবারের এই ২৫ মিনিটের ভাষণে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নির্বাচনী নিরাপত্তাকে একটি কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। যেখানে তাঁর দল রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে তাঁদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য লড়াই করছে।

 

ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শ্রেণীবদ্ধ তথ্য প্রকাশ করছেন যা প্রমাণ করে যে চীন মার্কিন ভোটারদের নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য চুরি করেছে। একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্য চীনের এই কার্যকলাপের ব্যাপ্তি সম্পর্কে তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন বা দমন করেছে।

 

ট্রাম্প বলেন, এই গোপনীয়তা মুক্ত করা নথিগুলো আমাদের নির্বাচনী পরিকাঠামোর ভয়াবহ দুর্বলতা প্রকাশ করবে।

 

তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২১ সালের একটি অশ্রেণীবদ্ধ মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে, ২০২০ সালের নির্বাচনে কোনো বিদেশি পক্ষ ব্যালট, গণনা বা ভোটার নিবন্ধনের মতো ‘প্রযুক্তিগত দিক’ পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মজার বিষয় হলো, সেই মূল্যায়নটি পরিচালিত হয়েছিল জন র‍্যাটক্লিফের তত্ত্বাবধানে, যিনি তখন ট্রাম্পের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক ছিলেন এবং বর্তমানে তাঁর সিআইএ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

তাছাড়া, সিআইএ-র একটি সাম্প্রতিক নথিতে বলা হয়েছে, বেইজিং বর্তমানে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার জন্য গোপনে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা পোষণ করে না। এমনকি অন্য একটি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমরা মনে করি যে, নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার মতো যথেষ্ট ব্যাপক পরিসরে ভোট গণনা ব্যবস্থায় কারচুপি করা কঠিন হবে।’

 

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, ট্রাম্প যে ভোটার ফাইলের কথা বলছেন তা আসলে কোনো গোপনীয় তথ্য নয়; রাজনৈতিক পরামর্শদাতারা নিয়মিতই এসব ভোটার ফাইল কিনে থাকেন এবং এতে কারসাজি করা সম্ভব ছিল না।

 

ট্রাম্পের এই ভাষণ চলাকালীনই এক বিবৃতিতে সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ার, ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘চীন সম্পর্কে ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর 'বোমা'গুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আসল সত্য হলো, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বসম্মতভাবে একমত হয়েছে যে, ২০২০ সালের নির্বাচনে চীন একটি ভোটও পরিবর্তন করার চেষ্টা করেনি।’

 

অন্যদিকে মার্কিন শীর্ষ তিনটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মধ্যে দুটি এবং সিএনএন জাতীয় গুরুত্বের এই প্রাইম-টাইম ভাষণটি তাদের মূল প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচার না করার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয়।

 

ভাষণে ট্রাম্প কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের ওপর আবারও চাপ সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা ভোটার শনাক্তকরণ ও নাগরিকত্বের নতুন শর্ত আরোপকারী ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নামের একটি বিল পাস করে। এই বিল পাস হলে ভোট দেওয়ার জন্য ছবিসহ পরিচয়পত্র এবং মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক হবে এবং ডাকযোগে ভোটদান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। ডেমোক্র্যাটদের তীব্র বিরোধিতার কারণে বিলটি বর্তমানে সিনেটে আটকে আছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ভাষণটি ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য এক কঠিন রাজনৈতিক মুহূর্তে এসেছে। বর্তমানে অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেশ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ভাষণে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংক্ষেপে শুধু বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র বড় জয় পাচ্ছে এবং কর ছাড় ও অভিবাসন দমনের মতো অভ্যন্তরীণ সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

 

এদিকে চীন সম্পর্কে ট্রাম্পের এই কঠোর ভাষা দুই দেশের সম্পর্ককে আবারও নড়বড়ে করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা গত বছরের ব্যয়বহুল বাণিজ্য যুদ্ধের পর মাত্র স্থিতিশীল হতে শুরু করেছিল। আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি বৈঠকের কথা রয়েছে।

 

ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং সরাসরি বলেন, ‘চীন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কখনো হস্তক্ষেপ করেনি এবং করবেও না।’

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/এমএনকে

 

আরও পড়ুন