মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মকালীন নাগরিকত্ব বা বার্থরাইট সিটিজেনশিপ আইন বাতিলের পক্ষে নিজের কঠোর অবস্থান আবারও জাহির করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ কট্টরপন্থী রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের একটি বিতর্কিত পডকাস্ট শেয়ার করেছেন তিনি।
ওই পডকাস্টে ভারত ও চীনকে নরককুণ্ড (হেল-হোল) হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি অভিবাসীদের নিয়ে চরম বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে।
মাইকেল স্যাভেজ তার স্যাভেজ নেশন নামক পডকাস্টে অভিযোগ করেন, এশিয়া মহাদেশের বিশেষ করে ভারত ও চীনের নাগরিকরা গর্ভাবস্থার নবম মাসে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাদের উদ্দেশ্য থাকে আইনের ফাঁক গলে নবজাতকের জন্য তাৎক্ষণিক মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা। স্যাভেজের দাবি, অভিবাসীরা নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তাদের পুরো পরিবারকে ভারত বা চীনের মতো নরককুণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। তিনি ভারতীয় ও চীনা পেশাজীবীদের ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন তারা মাফিয়াদের চেয়েও দেশের বেশি ক্ষতি করছে। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্বেতাঙ্গদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার জন্যও তিনি এশিয়ানদের দায়ী করেন।
এই বর্ণবাদী পডকাস্টটি শেয়ার করার ঠিক একদিন আগে সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মকালীন নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান নেই। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকোসহ বিশ্বের প্রায় ৩৫টিরও বেশি দেশে এই আইন বিদ্যমান রয়েছে।
বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প বনাম বারবারা নামক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি চলছে। এই মামলার মূল বিষয়বস্তু হলো-অস্থায়ী ভিসা বা অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের বৈধতা।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আদালত যদি এই আদেশের বিপক্ষে রায় দেয়, তবে তা আমেরিকার বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জাতীয় মর্যাদা ও অখণ্ডতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে অভিবাসন ইস্যুকে আরও উত্তপ্ত করতেই ট্রাম্প এ ধরনের বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক বিষয় প্রচার করছেন।
সূত্র: টেলিগ্রাফ
ডিবিসি/এসএফএল