কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধারের জটলা দেখতে গিয়ে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় মরিয়ম বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মরিয়ম বেগম কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ভাওয়াল গ্রামের মুন্সিবাড়ির মাহবুব মিয়ার স্ত্রী এবং পাঁচ সন্তানের জননী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আর্থিক প্রয়োজনে স্বর্ণ বন্ধক রাখার জন্য শনিবার সকালে তাড়াইল থেকে ভৈরবে আসেন মরিয়ম। কাজ শেষে ছোট বোনের স্বামীর বাড়িতে কিছু সময় কাটিয়ে বিকেলে নিজ বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে তিনি ভৈরব রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এগারোসিন্ধু ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ট্রেন আসতে দেরি হওয়ায় তিনি প্ল্যাটফর্মেই অবস্থান করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় প্ল্যাটফর্মের একটি দোকানের সামনে একটি মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের অভিযান ও লোকজনের জটলা তৈরি হয়। কৌতূহলবশত মরিয়ম ভিড়ের দিকে এগিয়ে যান। ঠিক সে সময়ই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশের সময় তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে রেললাইনের মাঝে পড়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তার এক পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অন্য পা গুরুতর জখম হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মমিনুর রহমান রবিন জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর তার একটি পা বিচ্ছিন্ন এবং অন্য পায়ে গুরুতর জখম দেখা যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল, তবে ঢাকায় পাঠানোর আগেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ডিবিসি/পিআরএএন