চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনজীবন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে জেলাজুড়ে এ ঝড় আঘাত হানে। ঝড়ের সময় তিনতলার ছাদ থেকে পড়ে মকলেছুর রহমান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় গ্রামের সরদারপাড়ায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মকলেছুর রহমান ওই গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের সময় বাড়ির তিনতলার ছাদে রাখা টিন সরাতে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় প্রবল বাতাসে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝড়ের তীব্রতায় চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নূরনগর মোড়, ডিঙ্গেদহ ও বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় এবং চুয়াডাঙ্গা-দামুড়হুদা সড়কের ফকিরপাড়া ও কোষাঘাটায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকে পড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত গাছ অপসারণের কাজ শুরু করেন এবং কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঝড়ো হাওয়ায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এবং ডালপালা উপড়ে পড়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরসহ অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় জেলাজুড়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা বিরাজ করায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, রাত ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৯টা ৫ মিনিট পর্যন্ত জেলায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছাদ থেকে পড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছ সরিয়ে সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।
ডিবিসি/এসএফএল