জেলার সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় পাওনা টাকা নিয়ে সালিশের আগে সংঘর্ষ: বৃদ্ধ নিহত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে আয়োজিত সালিশি বৈঠক শুরুর আগেই প্রতিপক্ষের হামলায় আলিম উদ্দিন (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) রাত ৯টার দিকে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউল আলমের বাসভবনের সামনে এই সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আলিম উদ্দিন ওই ইউনিয়নের কুমার পাড়া গ্রামের মৃত ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে লিয়াকত আলী নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

স্থানীয় ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শংকরচন্দ্র গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফের কাছে ব্যবসায়িক লেনদেন সূত্রে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিলেন একই গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে জিয়া। দীর্ঘদিনের এই পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে শুক্রবার রাতে ইউপি চেয়ারম্যান মহিউল আলমের বাসভবনে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। পাওনাদার জিয়া ও তার চাচা আলিম উদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যরা বৈঠকের জন্য চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে অপেক্ষা করছিলেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈঠক শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে লিয়াকত আলী, তার ছেলে আলামিন ও নাতি আরাফাত মোটরসাইকেলে করে সেখানে উপস্থিত হন। তারা এসেই অতর্কিতভাবে আলিম উদ্দিনের ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক কিল-ঘুষি, লাথি ও ইট দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাসিম জানান, বৃদ্ধকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

 

নিহতের ভাই কালু মণ্ডলের অভিযোগ, পাওনা টাকা না দেওয়ার উদ্দেশ্যে এবং সালিশি বৈঠক নস্যাৎ করতে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ইউপি চেয়ারম্যান মহিউল আলম অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে নিজের হেফাজতে নেন এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করেন। চেয়ারম্যান জানান, কোনো আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই আকস্মিক এই মারামারির ঘটনাটি ঘটে যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

 

চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন