পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে। কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের এই জয় কেবল পূর্ণ পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং গোল ব্যবধানে মরক্কোকে পেছনে ফেলে গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে।
এই ম্যাচের মাধ্যমেই দীর্ঘ ২ বছর ৮ মাস, অর্থাৎ ৯৮১ দিনের চোটের অপেক্ষা কাটিয়ে অবশেষে ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নেমে চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েন ব্রাজিলের ইতিহাসের এই সর্বোচ্চ গোলদাতা।
এর আগে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনির দুর্বল ব্যাকপাসের সুযোগ নিয়ে ব্রাজিলের হয়ে গোলের খাতা খোলেন গোলমেশিন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচের ২২ মিনিটে তিনি আবারও স্কটল্যান্ডের জালে বল জড়ালেও গোলের আগে স্কটিশ ডিফেন্ডার হেনড্রিকে ফাউল করায় ভিএআর যাচাইয়ের পর মেক্সিকান রেফারি সিজার রামোস গোলটি বাতিল করেন। তবে প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে, যোগ করা সময়ে (৪৫+৩) মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারাইসের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডের মাধ্যমে ম্যাচে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। চলতি বিশ্বকাপে এটি ভিনিসিয়ুসের চতুর্থ এবং সবমিলিয়ে পঞ্চম গোল, যার ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সেলেসাওরা।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৬০ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে ব্রুনো গিমারাইসের দ্বিতীয় অ্যাসিস্টে দলের তৃতীয় গোলটি করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা ম্যাথিউস কুনহা। হাইতির বিপক্ষে আগের ম্যাচেই জোড়া গোল করা কুনহার এটি চলতি বিশ্বকাপে তৃতীয় গোল। ব্রাজিলের এই দাপুটে জয়ের দিনে গ্রুপের অপর ম্যাচে মরক্কো ৪-২ ব্যবধানে হাইতির কাছে পরাজিত হয়েছে। ফলে পয়েন্ট টেবিলের চিত্র পরিষ্কার করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে, স্কটল্যান্ড সরাসরি বিদায় না নিলেও সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার ক্ষীণ আশা টিকিয়ে রেখেছে।
ডিবিসি/এফএইচআর