যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যাক্টনে নিজ বাড়িতে মা এবং ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের আগে ওই কিশোর ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চ্যাটবট 'চ্যাটজিপিটি' ব্যবহার করে নিজ পরিবারকে খুন করার নানা তাত্ত্বিক ধারণা ও ফ্যান্টাসি সম্পর্কে সার্চ করেছিল বলে জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। ওই কিশোরের বিরুদ্ধে দুটি খুনের অভিযোগের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যের ওপর হামলা, মারধর এবং অনুমতি ছাড়া মোটর গাড়ি চুরি ও ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বস্টন থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অ্যাক্টনের মার্থা লেনের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার কিছু পরে অভিযুক্ত কিশোরের বাবা তাঁর স্ত্রী সুধা ভেঙ্কটেশন (৪৫) এবং ১৪ বছর বয়সী ছোট ছেলের সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে অ্যাক্টন পুলিশ বিভাগে খবর দেন। ওই বাড়িতে পড়াতে আসার কথা থাকা একজন প্রাইভেট টিউটরও তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি। এরপর পুলিশ ওই বাড়িতে প্রবেশ করে দুজনের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে। ছোট ছেলের মৃতদেহটি একতলায় এবং মায়ের মৃতদেহটি বেসমেন্টে পাওয়া যায়। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় অভিযুক্ত কিশোর বাড়িতে ছিল না। তদন্তকারীরা জানতে পারেন যে, সে তার মায়ের গাড়ি নিয়ে পালিয়েছে। এরপরই আশেপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করা হয়। বুধবার ভোরে পার্শ্ববর্তী ওয়েল্যান্ড এলাকায় একটি পার্কিং লটে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম বেজে উঠলে পুলিশ সেখানে পৌঁছায় এবং গাড়ির ভেতরে থাকা অর্জুন নামের ওই কিশোরকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই গ্রেপ্তার করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ওই কিশোরের ডিজিটাল কার্যক্রম পরীক্ষা করে দেখেছে। মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান এবং অ্যাক্টন পুলিশ প্রধান ডগলাস স্টুরনিওলো জানিয়েছেন, হত্যার আগে ওই কিশোর চ্যাটজিপিটি ও ইন্টারনেটে পরিবারকে হত্যার বিষয়ে নানা তথ্য খুঁজেছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের আগের ঘটনাপ্রবাহ এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য জানতে এই তথ্যগুলো বর্তমানে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রথমে অভিযুক্তকে লোয়েল জুভেনাইল কোর্টে হাজির করার কথা থাকলেও, ম্যাসাচুসেটসের কিশোর আদালতগুলোর হত্যার অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো এখতিয়ার নেই। তাই মামলাটি কনকর্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে স্থানান্তর করা হবে, যেখানে তার বিরুদ্ধে খুন এবং গুরুতর হামলার অভিযোগের আনুষ্ঠানিক শুনানি হবে। ঘটনার পেছনের প্রকৃত সময়রেখা পুনর্গঠন করতে ও আরও প্রমাণ সংগ্রহে পুলিশের তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: ফার্স্ট পোস্ট
ডিবিসি/ এসভিএন