২০১৪ ও ২০১৬ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আবারও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বার্সেলোনাকে বিদায় করে দিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। বুধবার রাতে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে বার্সা ২-১ ব্যবধানে জয় পেলেও প্রথম লেগের ২-০ ব্যবধানের ঘাটতি মেটাতে পারেনি। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ অগ্রগামিতায় সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল দিয়েগো সিমিওনের দল।
মাদ্রিদের এই লড়াইয়ে কোচ হান্সি ফ্লিক বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ একাদশ মাঠে নামিয়েছিলেন। নকআউট পর্বে ক্লাবটির সবচেয়ে কমবয়সী (গড় বয়স ২৪ বছর ৩৪৭ দিন) এই দলে ছিলেন না লাল কার্ড পাওয়া পাউ কুবারসি এবং চোটাক্রান্ত রাফিনিয়া, ক্রিস্টেনসেন ও মার্ক বার্নালরা। আক্রমণভাগের মূল ভরসা লেভানডফস্কি ও মার্কাস রাশফোর্ডকেও শুরুতে বেঞ্চে রাখা হয়।
অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও তরুণ তুর্কিরা ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিটের মধ্যেই দুই গোলের বোঝা সমতায় ফিরিয়ে আনেন। খেলার মাত্র চতুর্থ মিনিটে তোরেসের পাস থেকে গোলকিপারের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বল জালে জড়ান লামিনে ইয়ামাল। এরপর ২৪ মিনিটে দানি ওলমোর সহায়তায় বক্সে ঢুকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ২-০ (অ্যাগ্রিগেটে ২-২) করেন ফেরান তোরেস।
তবে ম্যাচের ধারার বিপরীতে গিয়ে ৩১ মিনিটে বার্সাকে স্তব্ধ করে দেন আদেমোলা লুকমান। মার্কোস লরেন্তোর বুদ্ধিদীপ্ত পাসে নাইজেরিয়ান এই ফরোয়ার্ডের গোল আতলেতিকোকে আবারও সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে লড়া বার্সেলোনা ৫৫ মিনিটে জালে বল পাঠালেও ভিএআরের কল্যাণে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। ৬৫ মিনিটে ওলমো গোলের সুবর্ণ সুযোগ মিস করলে হতাশা বাড়ে কাতালান শিবিরে।
আক্রমণে ধার বাড়াতে ফ্লিক পরে লেভানডফস্কি ও রাশফোর্ডকে মাঠে নামান। তবে উল্টো ৭৮ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বার্সা; আলেক্সান্ডার সরলথকে ফাউল করে ভিএআর পরীক্ষার পর লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এরিক গার্সিয়া। একজন কম নিয়ে শেষ দিকে আপ্রাণ চেষ্টা করেও জালের দেখা পায়নি বার্সা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লেভানডফস্কির হেড মুসো রুখে দিলে বার্সার বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। ৭০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়াম মেতে ওঠে ২০১৭ সালের পর আতলেতিকোর প্রথম সেমিফাইনাল নিশ্চিতের উল্লাসে। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৬ সালেও বার্সাকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়ে ফাইনালে খেলেছিল মাদ্রিদের ক্লাবটি।
ডিবিসি/এফএইচআর