ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল নিজ দলের নেতাকর্মীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ‘খাই খাই’ মানসিকতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার একটি পোস্ট ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রফিকুল ইসলাম জামাল ঝালকাঠির বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার মানসিকতা দ্রুত পরিহার করার অনুরোধ জানান। তিনি কঠোর ভাষায় অভিযোগ করেন যে, গত ছয় মাসে নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাহারা দেওয়া, তাদের পক্ষে ওকালতি করা, বাড়িঘর ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের বিনিময়ে ব্যাপক আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। এমনকি টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিজ দলে ভেড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে নেতাকর্মীরা পুরো দলটাকেই খেয়ে ফেলবেন।
নেতাকর্মীদের নৈতিক অবক্ষয়ের সমালোচনা করে তিনি পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ তাদের এত সুবিধা ভোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেই ‘৩৬ জুলাই’-এর শহিদদের স্মরণে ৫ আগস্ট নেতাকর্মীরা একটি সামান্য দোয়া বা মোনাজাতেরও আয়োজন করতে পারেননি। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র নেতা হওয়ার বা পদের আকাঙ্ক্ষায় রাজনীতি করলে খুব দ্রুতই তারা দল থেকে ছিটকে পড়বেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় সূত্রমতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ বিএনপি ও যুবদলের কিছু পদধারী নেতা তদারকি করছেন। এছাড়া বিএনপিপন্থী কিছু আইনজীবী রাজনৈতিক মামলায় আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। মূলত এসব কারণেই এমপি জামাল অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এর পাশাপাশি ঝালকাঠি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও এর পেছনের একটি বড় কারণ বলে জানা গেছে। সম্প্রতি জেলার দুই সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় না করেই শাহাদাৎ হোসেনের পাঠানো ৪১৭টি প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। জানা যায়, এই প্রকল্পগুলো বাতিলের দাবিতে রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ঝালকাঠি-২ আসনের এমপি ইসরাত সুলতানা এলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন।
নিজের এই আলোচিত মন্তব্য প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম জামাল পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে জানান, নেতাকর্মীদের নৈতিক অবক্ষয় দেখে এবং দলের প্রতি তাদের আনুগত্য অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থেই তিনি অনেকটা মনে কষ্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কথাগুলো বলেছেন। তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, নেতাকর্মীরা নিজেদের ভুল শুধরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
ডিবিসি/পিআরএএন