সাহিত্য, অন্যান্য

ছাত্রজীবনে বৃষ্টিবিলাস

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

বুধবার ১৭ই মে ২০২৩ ০৬:৪৩:৩২ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

এবার সেমিস্টার ব্রেকে কিচ্ছু করার নেই। কি যে এক অলস সময় কাটছে! যানবাহনের ধর্মঘট চলার জন্য এবার বাড়িও যাওয়া হবে না। কি আর করা! হোস্টেলে বসে বসে তাই অলস সময় কাটানো ছাড়া আর কোনো কাজ নেই।

ঢাকায় এবার প্রচন্ড গরম। বৃষ্টির নাম গন্ধও নেই। বন্ধুদের সঙ্গে চট্টগ্রাম বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু সেটিও শেষ মুহূর্তে এসে বাতিল হয়ে যায়। ভাগ্য ভালো সঙ্গে কিছু উপন্যাস আছে। হোস্টেলের রুমে বসে বসে বইগুলো পড়া শুরু করলাম। 

 

তিন-চার পৃষ্ঠা পড়ার পর কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম টেরও পেলাম না। ঘুম ভাঙল পানির ঝাপটায়। বিরক্ত লাগল খুব, ভাবলাম কোনো রুমমেট হয়তো মজা করছে আমার সঙ্গে। পাশ ফিরে আবারও ঘুমানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু এবার পানির ঝাপটা না, পুরো ভিজেই গেলাম। 

ঘুমানোর আশা ছেড়ে দিয়ে উঠে বসে দেখলাম বিছানা, বালিশ, চাদর, মেঝে সব ভিজে একাকার। বাইরে তাকিয়ে দেখি ঝুম বৃষ্টি। জানালা খোলা রেখে ঘুমিয়েছিলাম। এই গরমে যে কোনো পূর্বাভাস ছাড়া এমন বৃষ্টি নামবে তা কে জানত! এখন বৃষ্টি এসে সব ভাসিয়ে দিয়েছে।

 

ভাই, আমি প্রচন্ড অলস। এখন এগুলো পরিষ্কার করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা বা আগ্রহ কিছুই খুঁজে পেলাম না। পরে কোনোএকসময় করব ভেবে বের হয়ে আসলাম রুম থেকে। এই 'পরে করব, পরে করব' বলে বলেই আজ এই অবস্থা।  

যাই হোক, বাইরে বের হয়ে এসে আরেক দফা মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। রুম থেকে ছাতা আনতে ভুলে গিয়েছি। ছাতা আনতে ১০ তলা সিঁড়ি বেয়ে উঠার কথা চিন্তা করতেই পা ব্যথা করতে লাগল, তার উপর লিফটও নেই। লাগবে না ছাতা, ভিজে ভিজেই ঘুরবো আজকে। 

বৃষ্টির সঙ্গে যে বাতাস আজকে, নির্ঘাত উড়ে যাব। হাঁটা শুরু করলাম। মিন্টু রোড থেকে টিএসসি খুব বেশি দূর না। ১০ মিনিট হাঁটতেই কাকভেজা হয়ে গেলাম। বৃষ্টির সময় মিন্টু রোডটা যে এত সুন্দর লাগে তা বলার মতো না।

 

মন মেজাজ হঠাৎ করেই ভালো হয়ে গেল। পরীবাগ মোড়ে একটা টং এর দোকান আছে। এই বৃষ্টির মধ্যেও দেখি দোকান খোলা। দোকানে গিয়ে এককাপ চা অর্ডার করলাম। বৃষ্টির ফোঁটা চায়ে এসে পড়ছে, চা কমার বদলে আরও বাড়তে লাগল। 

আস্তে ধীরে হাঁটতে-হাঁটতে এসে পৌঁছালাম টিএসসি। আজকে টিএসসিও ফাঁকা। অবাক হলাম বেশ, টিএসসি সাধারণত ফাঁকা থাকে না। তাছাড়া বৃষ্টি কমার কোনো লক্ষণ দেখছি না। ক্ষুধা লেগে গিয়েছে। পকেটও ফাঁকা, তাই ভালো কোনো খাবারের আশা করলাম না। যা আছে আজ কপালে। 

অনেক দিন ধরে স্ট্রিট ফুড খেতে ইচ্ছা করছিলো। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আজ সেই ইচ্ছাও পূরণ করে ফেললাম। পকেটে এখন অবশিষ্ট আছে ২০ টাকা। রিকশা নিলাম একটা। রিকশায় চড়ে বৃষ্টিতে ভেজার মজাই আলাদা। মিন্টু রোডে এসে নামলাম।     

 

সন্ধ্যা হয়ে আসছে, বৃষ্টি এখন গুঁড়ি গুঁড়ি পড়ছে। এখন বাসায় ফেরার পালা। বাসায় ফিরে মনে পড়ল আমার তো এখন রাজ্যের কাজ বাকি। নাহ্, আজ কোনো কাজ করবো না। আজ অলসতার দিন।

 

হুমায়ূন আহমেদের 'বৃষ্টিবিলাস' বইটি নিয়ে বারান্দায় রাখা দোলনায় এসে বসলাম। ভাগ্যিস, দোলনাটা শুকনো আছে। এবার চার-পাঁচ পৃষ্ঠা পড়তে না পড়তে আবার কখন ঘুমিয়ে পড়লাম, টের পেলাম না। বই পড়া আমার দ্বারা হবে না। ঘুমের ওষুধের মতো কাজ করে বই আমার ক্ষেত্রে। 

যাই হোক, দিনটা খারাপ কাটল না, তবে কালকে একগাদা কাজ সারতে হবে এই ভেবে আবারও আলসেমি লাগা শুরু করল।     

আরও পড়ুন