বাংলাদেশ, রাজনীতি

ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ

হিমেল মাহবুব

ডিবিসি নিউজ

বৃহঃস্পতিবার ১২ই মে ২০২২ ০৪:০২:০৯ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইউনিট কমিটি গঠনে বাণিজ্যের অভিযোগ ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের নামে। প্রমাণ দিতে পারলে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পাল্টা জবাব।

ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটে সম্মেলন না করে প্রেসের মাধ্যমে কমিটি দেয়া হয়। আর এর মাধ্যমে শীর্ষ নেতারা কমিটি বাণিজ্য করেন বলে অভিযোগ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি অংশের। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দুই বছর আগেই। তাই দ্রুত জাতীয় সম্মেলন দেয়ার দাবি তাদের। আর বর্তমান শীর্ষ দুই নেতা বলছেন, কমিটি বাণিজ্যের প্রমাণ দিতে পারলে তারা নিজেরাই দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন।

কমিটি গঠনের একবছর পর ২০১৯ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে পদচ্যুত হন সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানী।

এরপর প্রায় দুই বছর সাত মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছেন আল নাহিয়ান খান জয় এবং লেখক ভট্টাচার্য। তাদের বিরুদ্ধেও সম্মেলন না করে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি দেয়ার অভিযোগ এসেছে। এভাবে কমিটি বাণিজ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটি অংশের।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কামাল খান বলেন, যেখানে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি দেয়ার কথা সেখানে সম্মেলন না করেই কমিটি দেয়া হচ্ছে। অনেক কমিটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং উপর মহলের চাপের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে। সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সময় কেন্দ্রিয় কমিটিকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির আরেক সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ বলেন, কিছু কমিটি দেয়ার ক্ষেত্রে পরামর্শ নেয়া হয়েছে। তবে অনেক কমিটিতেই গুটি কয়েক লোক তাদের ঘনিষ্ঠজনদের কমিটিতে পদ দিয়েছেন। এছাড়া আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেও পদ দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগও আমাদের কাছে এসেছে।

তবে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, প্রমাণ দিতে পারলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, যোগ্যতার বিচারেই আমরা নেতৃত্ব নির্বাচন করি। এখানে আর্থিক লেনদেনের কোন প্রশ্নই আসে না। কেউ যদি বলে আর্থিক লেনদের মাধ্যমে পদ পেয়েছে এমন প্রমাণ দিতে পারে তাহলে তা আমি মাথা পেতে নিয়ে আমার সংগঠন থেকে চলে যাব।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, উদ্দেশ্য প্রণেদিতভাবেই কিছু লোক যারা নেতৃত্বে থাকে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে। এসব কথা তারা পরিকল্পিতভাবেই করে। অনেকে কিছু মানুষের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই এ কাজ করে।

প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে মনে করেন তারা।

আরও পড়ুন