বাংলাদেশ, রাজনীতি, জেলার সংবাদ, বিশেষ প্রতিবেদন

ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল আহমেদের খোঁজ নেয় না কেউ

ডিবিসি নিউজ ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

সোমবার ২৯শে মার্চ ২০২১ ০২:০৪:৫৫ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাদের হামলায় তার দু-হাত অকেজো হয়ে যায়। ক্ষতবিক্ষত হয় মস্তিষ্কসহ পুরো শরীর।

সিলেটের ছাত্রলীগ নেতা ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রাসেল আহমেদ গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে বেঁচে আছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ত্যাগী এই সৈনিকের খোঁজ নেন না কেউ।

২০১৩, রাজপথ তখন উত্তাল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে।  সেই উত্তপ্ত সময়টাতে ঘরে বসে থাকেননি তরুণ রাসেল।  'জয়বাংলা' শ্লোগানে ছাত্রলীগের মিছিল কিংবা গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিরোধ,  সবকিছুতেই আপসহীন পদচারণা।  এমনি এক সময় আচমকা তার ওপর হামলা চালায় জামায়াত- শিবিরের ক্যাডাররা।

কেটে দেয় দু'হাতের রগ ও কব্জি, মাথাসহ সারা শরীরে মারাত্মক জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। কোনোরকম প্রাণে বাঁচলেও, বেঁচে থেকে মরার মতোই তার জীবন। দুটি হাত একেবারে অকেজো। মাথাসহ শরীরে এতোটাই জখম ছিলো, চিকিৎসক বলেছেন জীবদ্দশায় আর কোনো অস্ত্রোপাচার হলে তাকে অচেতন করা যাবে না।

জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের হামলার শিকার রাসেল আহমদ বলেন,'হাত দিয়ে কোন কাজ করতে পারি না। নেত্রীর কাছে যারা যেতে পেরেছেন তারা বঞ্চিত হয়নি। কিন্তু আমি তার কাছে পৌঁছাতে পারিনি।'

আট বছরের চিকিৎসায় প্রায় নিঃস্ব পরিবার; রাসেলের খাওয়া-চলাফেরার সবটুকুই অন্যের হাত ধরে।  তবু, থেমে থাকেননি- সুযোগ পেলেই ছুটে আসেন প্রিয় ক্যাম্পাসে - হাতড়ে বেড়ান আন্দোলন সংগ্রামের স্মৃতি। রাসেল আহমদ আরও বলেন,'যুদ্ধাপরধীদের বিচারের দাবিতে আমি আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। এই অবস্থাতেও আমি পিছিয়ে নেই। আওয়ামী লীগের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে আমি অংশগ্রহণ করি।'

এতো ত্যাগের পরেও কেউ খোঁজ রাখেনি তার। জায়গা হয়নি ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতেও। রাজনৈতিক সহকর্মীরা বলেন,'রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে যদি মূল্যায়ন করা হয় তবে ভবিষ্যতেও জাতির পিতার আদর্শের সৈনিকরা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করবে।'

শত প্রতিকূলতায় পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন; খোঁজ পেলেই বন্ধুর কাঁধে ভর করে যোগ দিচ্ছেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। এমন ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জানালেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন,'মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ বিরোধী আন্দলনে তার অংশগ্রহন সব সময় স্বক্রিয়। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, আর্থিকভাবে বা চারকি দিয়ে তার পাশে যেন রাষ্ট্র দাঁড়ায়।'




আরও পড়ুন