জেলার সংবাদ

ছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দিল বিদ্যালয়

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি অন্তত এক মাস আগের বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত কিশোরকে (১১) স্থানীয় শালিসে কান ধরে উঠবস করিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়। তবে নতুন করে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর খোদ ভুক্তভোগী ছাত্রীকেই স্কুল থেকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুলড্রেস পরা দুই ছাত্রী হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে এক কিশোর এসে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে লাথি মারে। ছাত্রীটি প্রতিবাদ করলে তাকে আরও একবার লাথি দেওয়া হয়। পাশে থাকা এক ব্যক্তি পুরো ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে। কাঁচপুরের ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী সেখানে উপস্থিত ছিল। এ সময় অভিযুক্ত কিশোর পেছন থেকে এসে হঠাৎ চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে পরপর দুইবার লাথি মারে।

 

ঘটনার পর স্থানীয়রা সালিসের মাধ্যমে অভিযুক্ত কিশোরকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ায়। সেই ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে ভবিষ্যতে এমন কাজ আর না করার অঙ্গীকার করতে দেখা যায়।

 

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জানান, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের হলেও সম্প্রতি ভিডিওটি ভাইরাল হয়। স্কুল চলাকালে বিদ্যালয়ের বাইরে যাওয়ার অভিযোগে পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে তাঁর মেয়েকে টিসি দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি মেয়েকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার বলেন, ‘স্কুল পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই ছাত্রীকে টিসি দেওয়া হয়েছে। স্কুল চলাকালীন তারা বাইরে ঘোরাঘুরি করছিল বলেই কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

 

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ‘ভাইরাল ভিডিওটি আমরা দেখেছি। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

ডিবিসি/এমএনকে

 

 

আরও পড়ুন