পশ্চিম দিল্লির একটি সরকারি হাসপাতাল থেকে অপহৃত তিন বছরের এক শিশুকে বিহারের মুঙ্গের জেলা থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে দিল্লি পুলিশ। ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি পথ ট্র্যাক করে অভিযুক্ত মহিলাকে পাকড়াও করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট গুরু গোবিন্দ সিং (জিজিএস) হাসপাতালের খেয়ালা চত্বরে খেলার সময় শিশুটি নিখোঁজ হয়। শিশুটির মা যখন ওষুধ আনতে গিয়েছিলেন, সেই সুযোগেই তাকে অপহরণ করা হয়।
দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে একটি পিসিআর কলের ভিত্তিতে খেয়ালা থানা মামলা রুজু করে এবং শিশুর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে।
পশ্চিম দিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসিএফ) হরেশওয়ার ভি স্বামী জানান, `হাসপাতাল এবং আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এক অজানা মহিলা শিশুটিকে কোলে করে নিয়ে যাচ্ছেন।'
পুলিশ একাধিক ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং ই-রিক্সায় চড়ে ওই মহিলার মাদিপুরের দিকে যাওয়ার গতিপথ ট্র্যাক করে। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত হয় ৩১ বছর বয়সী চুনারী দেবী, যিনি বিহারের বাসিন্দা এবং বর্তমানে মাদিপুরে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মহিলা দিল্লি ছেড়ে বিহারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। প্রযুক্তিগত নজরদারি ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি পুলিশ দল ১,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে মুঙ্গের জেলার অসনাহা গ্রামে পৌঁছায় এবং সেখান থেকেই শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত চুনারী দেবীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেন, তাঁর ছয়টি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং তিনি একটি পুত্রসন্তান লালন-পালন করার জন্যই শিশুটিকে অপহরণ করেছিলেন। শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি আর সন্তান ধারণ করতে পারছিলেন না বলেও দাবি করেন ওই মহিলা।
উদ্ধারের পর শিশুটিকে নিরাপদে দিল্লিতে ফিরিয়ে এনে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
ডিবিসি/এমএনকে