জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী 'টাইম'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার পর আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমে এটিই তারেক রহমানের প্রথম সাক্ষাৎকার। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) টাইম ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।
নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও পরিকল্পনার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে তারেক রহমান টাইমকে বলেন, আমি যদি আমার পরিকল্পনার ৩০ ভাগও বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডিসেম্বরের শেষ দিকে পরিচালিত একটি জনমত জরিপে বিএনপির প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থন দেখা গেছে। যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থন ১৯ শতাংশ। টাইম ম্যাগাজিন মন্তব্য করেছে, বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানের ওপর আস্থা রাখছে বলেই প্রতীয়মান হয়।
নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে টাইম। ম্যাগাজিনটি উল্লেখ করে, এই সংস্কারগুলো দেশকে পুনরায় স্বৈরতন্ত্রের দিকে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণ যাতে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পান, সে জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরলে লাখো জনতা তাকে স্বাগত জানায়। তবে এই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন।
অশ্রুসজল চোখে তারেক রহমান বলেন, আমার হৃদয় দুঃখভারাক্রান্ত। কিন্তু মায়ের কাছ থেকে আমি শিখেছি, যখন কোনো দায়িত্ব অর্পিত হয়, তখন তা অবশ্যই পালন করতে হবে। তিনি জানান, এই বিভক্ত জাতিকে সঠিক পথে ফেরাতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রতিবেদনে ২০০১-২০০৬ শাসনামলে দুর্নীতি এবং ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত সরকারের সময় তারেক রহমানের কারাবাস ও নির্যাতনের বিষয়টিও উঠে আসে। নির্যাতনের ফলে তার মেরুদণ্ডে যে সমস্যা হয়েছিল, তা এখনো তাকে ভোগায়।
এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, শীত বাড়লে আমার পিঠের ব্যথা বেড়ে যায়। তবে আমি একে জনগণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতার স্মারক হিসেবে দেখি। আমাকে আমার সেরাটা দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কাউকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়। দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তারা (অভিযোগকারীরা) কোনো কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দণ্ড বাতিল করা হয়েছে।
ডিবিসি/এসএফএল