ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাতিল:

জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বহাল রাখল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সকলেই দেশটির নাগরিক- শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই নীতি ও সাংবিধানিক অধিকারকে আবারও পুনর্বহাল করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বহুল আলোচিত নির্বাহী আদেশটি অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সুপ্রিম কোর্টের ৯ সদস্যের বেঞ্চে ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে ট্রাম্পের নীতিটি খারিজ হয়ে যায়। 'ট্রাম্প বনাম বারবারা' মামলায় প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসসহ পাঁচ বিচারপতি- সোনিয়া সোতোমেয়র, এলিনা কাগান, অ্যামি কোনি ব্যারেট ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন একমত হয়েছেন যে, ট্রাম্পের এই আদেশ সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর পরিপন্থী। অন্যদিকে, বিচারপতি ব্রেট কাভানো আলাদাভাবে তার মতামতে জানান, এই আদেশটি মার্কিন ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন।


আদালতের এই রায়ে তীব্র দ্বিমত পোষণ করেছেন রক্ষণশীল তিন বিচারপতি- ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিতো এবং নিল গোরসাচ।


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বা ট্যারিফ সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বাতিলের পর, এটি তার দ্বিতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় কোনো বড় নীতি যা সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে ধাক্কা খেল। হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম দিনই অভিবাসন দমনের অংশ হিসেবে এই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প।


প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে লেখেন, "নাগরিকত্ব হলো অধিকার পাওয়ার অধিকার- যাতে আমাদের রাজনৈতিক সম্প্রদায়ে কেউ অবাধে অংশ নিতে পারে। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই ভূখণ্ডের প্রত্যেক স্বাধীনভাবে জন্ম নেওয়া মানুষের জন্য সেই প্রতিশ্রুতি প্রসারিত করেছিলেন। আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করছি।"


অন্যদিকে ভিন্নমত পোষণ করে বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস ও নিল গোরসাচ যুক্তি দেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের এই ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা সঠিক নয়। থমাস লেখেন, পর্যটক ও অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার যে আদেশ প্রেসিডেন্ট দিয়েছিলেন, তাকে সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করে একটি অস্বাভাবিক পদক্ষেপ নিয়েছে।


ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ডার অন্যতম মূল ভিত্তি ছিল এই নির্বাহী আদেশ। এর উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী বা সাময়িকভাবে আসা বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ বন্ধ করা। তবে আমেরিকার কোনো আদালতে এটি টিকতে পারেনি। নিম্ন আদালতগুলো শুরুতেই এটি কার্যকর করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় আদেশটি কখনোই বাস্তবে রূপ নিতে পারেনি।


মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সিটিজেনশিপ ক্লজ বা নাগরিকত্ব ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিক হওয়া এবং তার এখতিয়ারাধীন সকল ব্যক্তিই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। পরবর্তীতে ১৯৪০ এবং ১৯৫২ সালের অভিবাসন আইনেও কংগ্রেস এই ভাষার স্বীকৃতি দেয়।
১৮৯৮ সালের এক ল্যান্ডমার্ক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, বিদেশি কূটনীতিক বা দখলদার সেনাবাহিনীর সন্তান ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সবাই নাগরিকত্বের অধিকারী হবেন। পরবর্তীতে ১৯২৪ সালে আইনের মাধ্যমে আদিবাসী আমেরিকানদেরও এর আওতাভুক্ত করা হয়।


মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট এবং পেন স্টেটের পপুলেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ট্রাম্পের এই আদেশ কার্যকর হলে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিশু মার্কিন নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হতো।


মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে গত এপ্রিল মাসে শুনানির সময় স্বশরীরে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে তিনিই প্রথম কোনো দায়িত্বরত প্রেসিডেন্ট যিনি সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। তবে বিগত কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প নিজেই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন যে, এই আইনি লড়াইয়ে তার জেতার সম্ভাবনা কম।


নিউ হ্যাম্পশায়ার, ওয়াশিংটন, ম্যাসাচুসেটস এবং মেরিল্যান্ডের আদালতে একের পর এক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার পর অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হলো।


সূত্র: সিবিএস


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন