বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

জমি দখল করে আশ্রয়ণের ঘর বানাচ্ছেন ইউএনও

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

শুক্রবার ৭ই এপ্রিল ২০২৩ ০১:১৬:০০ পূর্বাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে জমি দখল করে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের এবং আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ থাকলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। বরং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করা হয়। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দাবি করেন, সরকারি খাস জমিতেই নির্মাণ কাজ চলছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল করা হয়নি।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সালাম দাবি করে বলেন, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের ছত্রকান্দা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি স্থানীয় ছত্রকান্দা মৌজা নং-০৬, এস.এ খতিয়ান নং ৫৯, দাগ নং- ৪৩২, জমি ৫৩ শতাংশ। একই মৌজায় ২৬২নং খতিয়ানের ৪৩২/৮৪৫ নং দাগের জমি ২০ শতাংশ জমির একুনে ৭৩ শতাংশ জমির চৌহদ্দি দেওয়া আছে এবং এগুলো তাদের ভোগ দখলে রয়েছে।


কিন্তু সম্প্রতি সরকারের অবাসন প্রকল্প তৈরির জন্য তাদের ব্যক্তি মালিকানধীন জমি দখল করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। জমিতে লাগানো রেইনট্রি, চাম্বুল, মেহগুনিসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ-পালা কেটে বিক্রি করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। যার আনুমানিক মূল্য পাঁচ লাখ টাকা। 

এই ঘটনায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ৪০/২০২৩। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বাউফল সহকারি জজ আদালত সাত দিনের মধ্যে বিবাদীদের জবাব দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু বিবাদীরা বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে প্রবেশ করে গাছ-পালা কেটে বিক্রি করলে পুনরায় গত ২ মার্চ আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে আদালত অন্তবর্তীকালীন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। নিষেধাজ্ঞা পরও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোরপূর্বক নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমাদের পৈত্রিক জমি অবৈধ ভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দখল করার প্রতিবাদ করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করে তিন মাসের সাজা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে। ২৯ মার্চ আদালত আমাকে খালাস প্রদান করেন। বর্তমানে আমাদের সম্পত্তিতে জোরপূর্বক ঘর তোলা চলমান রয়েছে। আমরা আমাদের ন্যায্য জমি চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আ. রশিদ মৃধা বলেন, ‘ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার নিজেও জানে যে জমির মালিক আমরা আর পাশের জমি সরকারি। এরপরও তারা আমাদের জমি দখল করে কাজ করছে। যেহেতু পাশে পুকুর আছে সেটা ভরাট করতে তাদের বেশি খরচ হবে। এ কারনে আমাদের ভরাট করা জমিতে তারা ঘর নির্মাণ করছে।’

এ ছাড়া সার্ভেয়ার কামরুল হাসান এবং ভূমি অফিসের তহসিলদার বাপ্পি বিষয়টি সমাধান করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে টাকা দাবি করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রশিদ মৃধা।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-আমিন বলেন, সরকারি জমিতে ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে কারও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ঘর তৈরি করা হচ্ছে না। আর আদালত যেই জমিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেখানে আমরা কাজ করছি না। হাসিনা বেগমকে মোবাইল কোর্টে সাজা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন,‘ সরকারি কাজে বাধাদানের অপরাধে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল।’ 

 

ডিবিসি/কেএমএল

আরও পড়ুন