আন্তর্জাতিক

জর্জিয়ায় রাস্তা সংস্কারের সময় মিলল দশম শতকের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসির প্রধান রাজপথ সংস্কারের সময় মাটির নিচ থেকে পাওয়া গেছে দশম শতকের সিরামিক সামগ্রীর এক বিশাল ভাণ্ডার। রাজধানীতে উদ্ধার হওয়া মধ্যযুগীয় নিদর্শনগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম প্রাচীন।

পথচারীদের পারাপার সহজ করা, দিকনির্দেশক চিহ্ন উন্নয়নসহ নানা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চলতি গ্রীষ্মে তিবিলিসির কেন্দ্রস্থল রুস্তাভেলি এভিনিউতে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়। এই উন্নয়নকাজের কারণে নগরজুড়ে তীব্র যানজট ও গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে এই কাজের সূত্র ধরেই শহরটির সুপ্রাচীন অতীতের এক বিরল ঝলক দেখার সুযোগ পেলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

 

প্রধান এই সড়কের প্রায় ছয় মিটার নিচে একটি প্রাচীন সিরামিক বা মৃৎশিল্পের কারখানার সন্ধান মেলে। খননস্থলের খুব কাছেই অবস্থিত জর্জিয়ার জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক ডেভিড লর্ডকিপানিডজের কাছে অবশ্য এই আবিষ্কার অপ্রত্যাশিত ছিল না। তাঁর মতে, তিবিলিসি প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ, তাই মাটির নিচে বিভিন্ন যুগের কর্মশালার সন্ধান পাওয়া খুবই স্বাভাবিক।

 

মধ্যযুগীয় ইতিহাস অনুসারে, চতুর্থ শতাব্দীতে কার্তলি রাজ্যের শাসক প্রথম ভাখতাংয়ের আমলে তিবিলিসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উদ্ধারকৃত সিরামিক সামগ্রীর অলঙ্করণ পরীক্ষা করে গবেষকরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, এগুলো দশম থেকে একাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ের। সে সময় তিবিলিসি আরব শাসনাধীনে ছিল এবং সিল্ক রোডের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। সংগৃহীত এই প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রীগুলো থ্রি-ডি স্ক্যানিং ও বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য জাতীয় জাদুঘরে নেওয়া হবে।

 

মধ্যযুগে তিবিলিসি দামেস্কের উমাইয়া খেলাফত, বাগদাদের আব্বাসীয় খেলাফত এবং সেলজুক সাম্রাজ্যের মতো পরাশক্তিদের হাতবদল হয়ে ক্রমান্বয়ে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

 

লর্ডকিপানিডজে জানান, তিবিলিসি সবসময়ই বহু সংস্কৃতির মিলনমেলা এবং এই অঞ্চলের একটি অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র ছিল। পরবর্তীকালে মঙ্গোল, পার্সিয়ান ও রুশ আগ্রাসনও শহরটির রূপান্তরে গভীর প্রভাব ফেলে। জর্জিয়ান ভাষায় তিবিলিসি নামের অর্থ 'উষ্ণ স্থান', যা মূলত পাহাড় থেকে নেমে আসা উষ্ণ গন্ধকযুক্ত প্রস্রবণের প্রতি নির্দেশ করে। সড়কের খননকাজের কারণে মাটির নিচে লুক্কায়িত সেই জলপ্রবাহের কিছু অংশও এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

 

আগামী নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে শ্রমিকরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন এবং শহরের মেয়র এই সড়কটিকে সুসংগঠিত ও আধুনিক রূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সড়ক সংস্কারের সময় মাটির নিচ থেকে ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টস উঠে আসার অভিযোগ নিয়ে তদন্তের মুখেও পড়েছে সিটি হল কর্তৃপক্ষ।

 

সূত্র: দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট

 

ডিবিসি/হাদী

আরও পড়ুন