আন্তর্জাতিক

জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

MANIK

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডান, কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের দাবি, তাদের এই আকস্মিক হামলায় মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং রাডার স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘ইরান যুদ্ধ সমাপ্তির অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি’ সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে গেছে, যা পুরো অঞ্চলকে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

 

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছে যে, তারা জর্ডানের একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দুই দফায় শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানের একটি শিশু ক্যান্সার হাসপাতালের কাছে মার্কিন বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই জর্ডানে এই হামলা চালানো হয়েছে।

 

একই সাথে তেহরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের মূল অবকাঠামোতে আঘাত করার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে এই অঞ্চলের সমস্ত মার্কিন সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

 

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইরানের মূল সেনাবাহিনী কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

 

এই হামলার পর বাহরাইন জুড়ে বিমান হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, কুয়েত সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ‘ইরানি আগ্রাসনের’ জবাবে ‘শত্রু ড্রোন হামলার’ কথা নিশ্চিত করেছে। কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে জানান, ‘ইরানের জঘন্য আগ্রাসনের জের ধরে কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রু ড্রোন হামলার মোকাবেলা করছে। যদি কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, তবে তা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কর্তৃক শত্রু হামলা প্রতিহত করার ফল।’

 

এই নতুন দফার সহিংসতার সূত্রপাত হয় যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের দিকে যাওয়া একটি কুরাকাও-এর পতাকাবেষ্টিত তেল ট্যাঙ্কারের চিমনিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

 

ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, জাহাজটি তাদের নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী তেহরান, সেমনান প্রদেশ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী চাবাহারসহ ইরানের একাধিক কমান্ড সেন্টারে ব্যাপক হামলা চালায়। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান মার্কিন হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

 

বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনী দিনে-দুপুরে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা পুনরায় শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে তেহরানের ক্ষমতা সীমিত করতেই তারা এই অভিযান জোরদার করেছে। তবে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের এই সফল পাল্টা আঘাতের পর পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

 

সূত্র: ইউরো নিউজ

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন