জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কো-ডিজাইন দ্য ফিউচার অব সাউথ-এশিয়ান ক্লাইমেট ডিপ্লোমেসি’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ক্লাইমেট কোঅপারেশনের (SARCC) সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণসহ দূষণ নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। নদীর ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করতে হবে। তবে দূষণের মূল উৎস বন্ধ করতে না পারলে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদী রক্ষা করা যাবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এখন আর কোনো একক দেশের সমস্যা নয়। আন্তদেশীয় এই সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও শক্তিশালী জলবায়ু কূটনীতি অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে সার্ক (SAARC) এবং বিমসটেককে (BIMSTEC) আরও সক্রিয় করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাপপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো প্রভাবগুলো জাতীয় সীমানা অতিক্রম করছে। তাই সমন্বিত ও ভবিষ্যৎমুখী আঞ্চলিক উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল আন্তনদী ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা বাড়ানোর তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা ট্রান্সবাউন্ডারি বায়ু দূষণ রোধ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন কানেক্টিভিটি এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে যৌথ দরকষাকষির সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।
সভায় দেশের বরেণ্য জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিবিসি/এমএনকে