জাতীয়

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা ও উদ্ভাবনে অগ্রাধিকার দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

শুক্রবার ৫ই জুন ২০২৬ ১২:১৩:৪৬ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি জলবায়ুঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিব্যবস্থাকে টেকসই, আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু হিসেবে গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত নগণ্য হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার উচ্চ ঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। 'ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স-২০২৬' অনুযায়ী বাংলাদেশ উচ্চ জলবায়ুঝুঁকিতে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

 

এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী নীতিকাঠামো অনুসরণ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং জলবায়ুজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের মতো যুগান্তকারী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

 

এছাড়াও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন ক্রেডিট ও বৈশ্বিক কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবেশ সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই কেবল একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। পরিশেষে তিনি জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) ঘোষিত এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’-এর আলোকে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু উদ্যোগকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান এবং দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন