ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দিন ১৮ জিলহজ 'ঈদে গাদীর' আগামীতে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট সুফি সাধক, বিজ্ঞানী, গবেষক ও ওলামায়ে কেরাম।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা থেকে সরকারের প্রতি এই যৌথ আহ্বান জানানো হয়।
সাদরিয়া সোসাইটি, ইমামীয়া চিশতীয়া নেজামীয়া সংঘ এবং তরিকতে আহলে বাইত বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও প্রধান আলোচকসহ উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদরিয়া সোসাইটির চেয়ারম্যান আনোয়ার আহমেদ শিবলী বলেন, বিদায় হজের পর জিলহজ মাসের ১৮ তারিখে আল্লাহর নির্দেশে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) গাদীর-এ-খুম প্রাঙ্গণে যে ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা মুসলিম উম্মাহর হেদায়েত ও ঐক্যের মূল ভিত্তি। আহলে বাইতের শাশ্বত আদর্শকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ধারণ করা হলে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ও পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোবারক আহমদ খান বলেন, মুসলিম বিশ্বের বহু দেশে এই দিনটি অত্যন্ত মর্যাদার সাথে উদযাপিত হয়। বাংলাদেশ একটি সুফি ভাবধারার দেশ হওয়ায় এখানেও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এই ঐতিহাসিক দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরা উচিত।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর ফ্যাকাল্টি ও বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদ মুহাম্মদ তানিম নওশাদ প্রধান আলোচক হিসেবে দিনটির ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক দিক বিশ্লেষণ করে আগামীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এটি উদযাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাদরিয়া সোসাইটির ধ্যান ও সালাত বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান (মুফাসসিরে কোরআন), যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত আলী খান (হাফেজে কোরআন) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও তরিকতে আহলে বাইত বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাদল। বক্তারা সর্বসম্মতিক্রমে এই ঐতিহাসিক দিনটিকে জাতীয় ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাদরিয়া সোসাইটির মহাসচিব এবং তরিকতে আহলে বাইত বাংলাদেশের সভাপতি আহম্মেদ কামরুল মোর্শেদ। তিনি আগামী বছর থেকে এই দাবি আদায়ে এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে দেশের সকল দরবার, খানকাহ ও ইসলামী চিন্তাবিদদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
ডিবিসি/আরএসএল