আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়া অনন্য প্রতিভার অধিকারী এই দ্রোহের কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ ঢল নেমেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত তাঁর সমাধিতে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, অন্যায়কে প্রতিহত করে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কবি নজরুলই সবার প্রধান শক্তির উৎস। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা নজরুলের গান গাইতে গাইতেই রাস্তায় নেমেছিল। সমাজের সকল বৈষম্য ও চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে তিনি আজীবন বিপ্লবের বাণী প্রচার করে গেছেন। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জানান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি মুক্তিকামী আন্দোলনেই কবি নজরুল এক অবিচ্ছেদ্য অনুপ্রেরণার নাম।
জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ‘আমারে দেব না ভুলিতে...’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এই বিশেষ আয়োজনের উদ্বোধন হবে। এরপর আগামীকাল একই সময়ে জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে মূলত জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা, সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশন করা হবে।
পাশাপাশি, নজরুল একাডেমির পক্ষ থেকে তিন দিনব্যাপী বিস্তৃত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ সকাল ৮টায় একাডেমির পক্ষ থেকে কবির সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাদ জোহর সমাধিসংলগ্ন মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এছাড়া ২৮ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টায় মগবাজারের বেলালাবাদ কলোনিতে অবস্থিত ‘কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে’ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ২৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টায় একই মিলনায়তনে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।
ডিবিসি/পিআরএএন