জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে কোনো পদ শূন্য হওয়ার আগেই তিনজন প্রার্থীর জন্য প্রভাষক পদের একটি প্যানেল প্রস্তুত করে রাখার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের চলমান নিয়োগ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দিয়েছে সংস্থাটি।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তারিখে পাঠানো এক চিঠিতে ইউজিসি জানায়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্রে কমিশনের নজরে এসেছে যে ইতিহাস বিভাগে পদ শূন্য হওয়ার পূর্বেই তিনজন প্রার্থীর জন্য প্রভাষক পদের একটি প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। অথচ কমিশন অনুমোদিত কোনো পদে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্রার্থীদের প্যানেল প্রস্তুত করে রাখার কোনো বিধান নেই।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইতিহাস বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়ার আগে পদ শূন্য হওয়ার পূর্বেই কেন প্রভাষক পদের প্যানেল তৈরি করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত বক্তব্য আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিশনে পাঠাতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়।
তবে ইউজিসির এই নির্দেশনার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর ২৭টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় ইউজিসি থেকে কোনো চিঠি তাদের হাতে পৌঁছায়নি।
তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ১৩ বা ১৪ তারিখের দিকে চিঠিটি পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে ইউজিসিতে প্রয়োজনীয় জবাব পাঠানো হয়েছে এবং কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৯তম সিন্ডিকেট সভায় আগামী এক বছরের মধ্যে ইতিহাস বিভাগের কোনো শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে গেলে, পদ শূন্য হলে বা পদত্যাগ করলে পূর্বনির্ধারিত তিন সদস্যের একটি প্যানেল থেকে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ অনুমোদন করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চায়
ডিবিসি/এএমটি