ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ও শক্তি ইরানি কূটনীতিকদের জন্য একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নৌবাহিনীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরানের নৌবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল ফারামার্জ বেমানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি নৌবাহিনীর কমান্ডার ও সকল সদস্যের পক্ষ থেকে-বিশেষ করে দেনা ও বুশেহর যুদ্ধজাহাজের ক্রুদের পক্ষ থেকে-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শ্রীলঙ্কা ও ভারতে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসগুলোর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
রিয়ার অ্যাডমিরাল বেমানি দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় শহীদ সহযোদ্ধাদের পথ অনুসরণের ব্যাপারে নৌবাহিনীর দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
কূটনীতি ও সামরিক শক্তির সমন্বয় আব্বাস আরাগচি তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশকে রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হওয়া ইরানি সেনাবাহিনী এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস-এর কমান্ডার ও যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি এবং যুদ্ধের ময়দানে তাদের প্রস্তুতি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতাকে শক্তিশালী করে। এটি আমাদের কূটনীতিকদের জন্য এক বিশাল নৈতিক ও কৌশলগত সমর্থন।
দেনা ডেস্ট্রয়ারের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা বৈঠকে আরাগচি শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন হামলায় ধ্বংস হওয়া দেনা ডেস্ট্রয়ারের শহীদ নাবিকদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি এই হামলাকে অপরাধমূলক হিসেবে অভিহিত করে শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামরিক ও কূটনৈতিক বিভাগের এই সমন্বয়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
ডিবিসি/এসএফএল