চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই যুবককে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যার জেরে অভিযুক্ত মাদক কারবারিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। নিহত ওই মাদক কারবারির নাম নুরুল ইসলাম ইরান (৪৫)। তিনি ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হত্যার পর ক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়াসহ ১০-১২টি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি নুরুল ইসলাম ইরানের কিছু ইয়াবা হারিয়ে যায়। এ নিয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার ব্যবসায়িক পার্টনার জানায়, ইয়াবাগুলো এলাকার কিশোর নাঈম ও ইমরানের কাছে আছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২০ জুলাই রাতে ইরান ও তার দলবল ওই দুই জনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।
এরপর তাদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। নাঈমকে পিটিয়ে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে চামড়া ও নখ তুলে আধমরা অবস্থায় নিজ বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায় তারা। একই সময়ে ইমরানকে মারধর করা হলে তার পরিবারের লোকজন ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয়।
নির্যাতনের পর গুরুতর আহত অবস্থায় নাঈম ও ইমরানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহত নাঈমের চাচা মো. ফারুক জানান, নাঈম অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং ভালো ছেলে ছিল। বিনা অপরাধে তাকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়।
অন্যদিকে ইমরানের মা হাসিনা বেগম জানান, ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেলেকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার এমরানের মৃত্যু হয়। এরপর ২৪ জুলাই বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাঈমও মারা যায়।
শনিবার বিকেল ৫টায় নিহত নাঈমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার সময় মাইকে গ্রামবাসী ঘোষণা দেয় যে, এ ধরনের অত্যাচার তারা আর মেনে নেবে না। এ সময় অভিযুক্ত ইরান গ্রামবাসীদের পাল্টা হুমকি দেয় এবং কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এতে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।
ফাঁকা গুলির পর মাইকে ঘোষণা দিয়ে চার গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত ইরানকে খুঁজে বের করে এবং পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। জনরোষ এতটাই তীব্র ছিল যে, শনিবার দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত তারা ইরানের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় এবং এলাকায় তার আস্তানা হিসেবে পরিচিত ১০-১২টি ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
সার্বিক বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, `নাঈম হত্যার ঘটনায় শনিবার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর নাঈমের জানাজা শেষে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত ইরানকে হত্যা করে এবং তার বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া তার আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো এমন ১০-১২টি ঘরও ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয়রা।'
ডিবিসি/এমএনকে