পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত ভিড় এবং তাদের আচরণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় ১০ বছরের পুরোনো ‘চেরি ব্লসম’ উৎসব বাতিল করেছে জাপানের ফুজিয়োশিদা শহর কর্তৃপক্ষ।
বসন্তকালে জাপানের বিশ্বখ্যাত চেরি বা ‘সাকুরা’ ফুল এবং মাউন্ট ফুজির মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতি বছর এ শহরে পর্যটকদের ঢল নামে, যা বর্তমানে শহরটির ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
ফুজিয়োশিদার মেয়র শিকেরু হোরিউচি এক বিবৃতিতে বলেন, নাগরিকদের মর্যাদা এবং জীবনযাত্রার পরিবেশ রক্ষা করতেই এই উৎসব অবসানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, পর্যটকদের আচরণ নাগরিকদের শান্ত জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং প্রশাসনের মধ্যে এক ধরণের তীব্র সংকট তৈরি করেছে।
২০১৬ সালে আরাকুরায়ামা সেনগেন পার্ক পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে এলাকাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পার্কের প্যাগোডা এবং মাউন্ট ফুজির দৃশ্যটি একটি নিখুঁত ‘ইনস্টাগ্রাম শট’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করায় এবং জাপানি মুদ্রা ‘ইয়েন’ এর মান কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে ফুল ফোটার মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ১০,০০০ দর্শনার্থী শহরে প্রবেশ করছে।
বিপুল এ জনসমাগমের ফলে শহরে দীর্ঘস্থায়ী যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে পর্যটকদের কিছু অশিষ্টাচারের কারণে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, পর্যটকরা অনুমতি ছাড়াই ছবি তোলার জন্য ব্যক্তিগত বাড়ি ও বাগানে প্রবেশ করছে। এমনকি ব্যক্তিগত আঙিনায় মলত্যাগের মতো ঘটনাও ঘটছে এবং এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে পর্যটকরা উল্টো হট্টগোল সৃষ্টি করছে।
যদিও উৎসবটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে, তবুও এপ্রিল ও মে মাসে পর্যটকদের সম্ভাব্য ভিড় সামলাতে শহর কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
ফুজিয়োশিদাই একমাত্র স্থান নয় যেখানে ‘ওভার-ট্যুরিজম’ বা অতিরিক্ত পর্যটনের সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালে জাপানের ফুজিকাওয়াগুচিকো শহরে পর্যটকদের ছবি তোলা আটকাতে আইকনিক ভিউপয়েন্টে কালো পর্দা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এএমটি