জাপানে গত দুই সপ্তাহের রেকর্ড ভাঙা ভারি তুষারপাতে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও দুর্গতদের সহায়তায় দেশটিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জাপানি সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানায়, নিহতদের মধ্যে একজন ৯১ বছর বয়সী বৃদ্ধাও রয়েছেন, যাকে তার বাড়ির বাইরে ৩০০ সেন্টিমিটা বরফের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় মৃত উদ্ধার করা হয়। ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্যমতে, গত ২০ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত তুষারপাতজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৩০ জন নিহত এবং অন্তত ২৯০ জন আহত হয়েছেন।
৪০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর আমোরিতে সোমবার ১৮৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৮৬ সালে সেখানে ১৮১ সেন্টিমিটার তুষারপাত হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে ১৭৫ সেন্টিমিটার বরফ জমে আছে, যা বছরের এই সময়ের স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।
আমোরির গভর্নর সোইচিরো মিপাশিতা সোমবার সেনাবাহিনীর কাছে বিশেষ করে বয়স্ক নাগরিকদের জন্য ত্রাণ ও সহায়তা চেয়ে অনুরোধ জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ছাদ থেকে বরফ পড়া বা অতিরিক্ত তুষারের ভারে ভবন ধসে পড়ার মতো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি আসন্ন।
কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের তুষারধস এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। নিগাতা, আকিতা এবং হোক্কাইডোসহ একাধিক প্রিফেকচারে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিগাতায় তুষার পরিষ্কার করার সময় দুই ব্যক্তি নর্দমায় ভেসে গিয়ে প্রাণ হারান।
আর্কটিক অঞ্চল থেকে আসা একটি শৈত্যপ্রবাহের কারণে জাপানের আবহাওয়ায় এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাপানে সংসদীয় নির্বাচন (স্ন্যাপ ইলেকশন) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া নির্বাচনের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার একটি বিশেষ বৈঠক করেছেন এবং মন্ত্রীদের প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা রোধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র আল জাজিরা
ডিবিসি/এমইউএ