আন্তর্জাতিক, অন্যান্য

জাপানে হঠাৎ ভারী বর্ষণে বিমানবন্দরে আটকা প্রায় ৭ হাজার মানুষ, নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পূর্ব জাপানে 'নজিরবিহীন' ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ার কারণে টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন প্রায় সাত হাজার মানুষ এবং বাধ্য হয়ে আরও হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন সরকারি ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে টোকিওর পূর্বাঞ্চলীয় চিবা প্রিফেকচারে মুষলধারে বৃষ্টি আঘাত হানে। এর ফলে ওই এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতা জারির পাশাপাশি ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। চিবা ও এর আশপাশের এলাকার চার লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে প্রতি ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাধারণত আগস্ট মাসের পুরো সময়ের গড় বৃষ্টিপাতের সমান। দুর্যোগের কারণে প্রায় ৪৫ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি প্রথমবারের মতো ওই প্রিফেকচারের জন্য ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের সর্বোচ্চ ৫ নম্বর সতর্কতা জারি করে।


দুর্যোগে নিহতদের মধ্যে ইচিকাওয়া শহরের প্লাবিত রাস্তা থেকে ষাট বা সত্তরের কোঠার এক ব্যক্তির ভাসমান মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সাকুরা শহরে বন্যার পানিতে গাড়ি আটকে গিয়ে ৬৬ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বন্যার সময় গাড়ি থেকে বের হতে না পেরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। চিবার গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের জানান, এটি একটি চরম অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। অতীতে অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করলেও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন তিনি আগে কখনো হননি।


টোকিওর অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নারিতায় প্রায় ৭ হাজার যাত্রী রাত কাটাতে বাধ্য হন। পাশাপাশি ১ হাজার ৭০০ মানুষ চিবা প্রিফেকচারাল সরকারি ভবনে আশ্রয় নেন। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-এর একটি ফুটেজে দেখা যায়, চিবার সেন্ট্রাল ওয়ার্ডে একটি ম্যানহোল থেকে প্রচণ্ড বেগে পানি বেরিয়ে কাছাকাছি একটি পাঁচতলা ভবনের উচ্চতাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।


শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় এখনও বন্যার উচ্চ ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে। জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কাজুহিতো শিমামোতো জানান, যেসব নদীতে বন্যার ঝুঁকি ইতোমধ্যেই বেশি, সেখানে স্থানীয়দের জীবন রক্ষায় যেকোনো মূল্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। কিছু নদীতে বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকায় তিনি স্থানীয় পৌরসভার জারি করা সতর্কতা মেনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। জাপানের আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এমন চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের তীব্রতা ও পুনরাবৃত্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ডিবিসি/এসভিএন

আরও পড়ুন