জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় পুকুর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি প্রাচীন ও শক্তিশালী মর্টারশেল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কামালপুর গ্রামের একটি পুকুর থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।
বর্তমানে মর্টারশেলটি পুলিশের পাহারায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে দক্ষিণ কামালপুর গ্রামের সাদা মিয়ার পুকুর পাড়ে এক নারী তার ছাগলকে ঘাস খাওয়াতে যান। এ সময় পুকুরের এক কোণায় কাদার মধ্যে জং ধরা লোহার মতো একটি বস্তু দেখতে পান তিনি। সেটিকে ভাঙারি বা লোহার টুকরো মনে করে কুড়িয়ে আনার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। বস্তুটি দেখতে অনেকটা বোমার মতো হওয়ায় মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বকশীগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পাওয়ার পরপরই বকশীগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মর্টারশেলটি জননিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুকুর সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মর্টারশেলটি উদ্ধার করি। বর্তমানে এটি পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উদ্ধারকৃত মর্টারশেলটি অনেক পুরনো এবং এতে মরিচা ধরে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কামালপুর অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই যুদ্ধের সময় ব্যবহারের জন্য এটি আনা হয়েছিল, কিন্তু কোনো কারণে তা অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন এবং বিশেষজ্ঞ দল না আসা পর্যন্ত সকলকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন।
ডিবিসি/এসএফএল