বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় স্বজনদের ওপর হামলা

জামালপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জামালপুরের এম. এ রশীদ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় জেরিন নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিকার ও বিচার চাইতে গিয়ে হাসপাতালের স্টাফদের হামলার শিকার হয়েছেন মৃতের স্বজনরা। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

 

মৃত জেরিনের স্বামী দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে জানান, গত ৯ জুলাই তার স্ত্রীর পেটে সিস্টের ব্যথা নিয়ে তাকে জামালপুরের এম. এ রশীদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দিলে ডা. হারুন অর রশিদের তত্ত্বাবধানে তার সিস্টের অপারেশন করা হয়।

 

অপারেশনের প্রথম দিন রোগী স্বাভাবিক থাকলেও দ্বিতীয় দিন থেকে তার পেট ও পেটের চামড়া ফুলে যেতে থাকে। স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা নানা টালবাহানা করে রোগীকে সাত দিন আটকে রাখেন। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

 

ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, জামালপুরে অপারেশনের সময় জেরিনের খাদ্যনালী কেটে ফেলা হয়েছিল। ফলে সেখান থেকে খাবার লিক হয়ে পেটে মারাত্মক ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে। ইউনাইটেড হাসপাতালেও আরেকটি অপারেশন করা হলেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। উল্টো সেখানেও ছয় দিন রাখার পর রোগীর মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

 

দেলোয়ার হোসেন আরও অভিযোগ করেন, এম. এ রশীদ হাসপাতাল এবং ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতাল একই গ্রুপের হওয়ায় তারা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবও করেছিল।

 

স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন করার পরে এদিন দুপুরে ভুল চিকিৎসার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে এম. এ রশীদ হাসপাতালে আসেন দেলোয়ার হোসেন ও তার স্বজনরা। এ সময় হাসপাতালের স্টাফরা ক্ষিপ্ত হয়ে মৃত রোগীর স্বামী ও স্বজনদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

 

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ও ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে হাসপাতালের স্টাফ ও লোকজন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

 

এই পুরো ঘটনা ও হামলার বিষয়ে বক্তব্য নিতে এম. এ রশীদ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কেউ গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে বা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন