জামালপুরে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় একশ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ভুলবশত ২০২৫ সালের পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী এসব পরীক্ষার্থীরা সবাই সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী।
সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় নয় শতাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নেন, যার মধ্যে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ জন। ভুলবশত নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের একটি কক্ষে অনিয়মিতদের জন্য তৈরি পুরোনো প্রশ্নপত্র বিতরণ করায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। হল থেকে বের হয়ে অন্য কক্ষের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্ন মেলাতে গিয়ে বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। পরীক্ষা শেষে এমন ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী তিলা জামালি বলেন, পরীক্ষা দেওয়া শেষে তিনি দেখতে পান প্রশ্নের ওপরে '২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী' লেখা। বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানালে তিনি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু দুই বছর ধরে প্রস্তুতির পর কর্তৃপক্ষের এমন ভুলে এ-প্লাস কাটা যাবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে তিনি আক্ষেপ করেন। নুসরাত জাহান নামে আরেক পরীক্ষার্থী জানান, সারা বাংলাদেশ একটি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিলেও তারা ১০০ জন অন্য একটি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। এখন পাস করবেন নাকি ফেল করবেন, তা নিয়েই তাদের মধ্যে সন্দেহ কাজ করছে।
এ বিষয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলম মীর বলেন, তাঁদের কাছে আসা প্রশ্নপত্রের ২০টির একেকটি বান্ডেল করা থাকে। ৪২০২ নম্বর কক্ষের জন্য খোলা ৫টি বান্ডেলের প্রতিটির উপরেই ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র লেখা ছিল। কিন্তু ভেতরে ছিল ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র। পরীক্ষা শুরুর আগে বিষয়টি দেখার সুযোগ না থাকায় শিক্ষকেরা বান্ডেল খুলে তা পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেন। পরীক্ষা শেষে জানা যায়, যারা মূলত অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের জন্য পরীক্ষা দিচ্ছেন তাদের জন্যই এই প্রশ্ন ছিল।
অধ্যক্ষ আরও জানান, বিষয়টি জানাজানির পর তারা বোর্ডে যোগাযোগ করেছেন। শিক্ষা বোর্ড থেকে ওই ১০০ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠাতে বলা হয়েছে। তাদের উত্তরপত্রগুলো নমনীয়ভাবে এবং ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রের আলোকেই মূল্যায়ন করা হবে বলে বোর্ড থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিবিসি/আরএসএল