তদন্ত কমিটি গঠন

জামালপুরে ‘এ নেগেটিভ’ রোগীর শরীরে দেয়া হলো ‘ও পজিটিভ’ রক্ত

জামালপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জামালপুরে নার্সের গাফিলতিতে জেনারেল হাসপাতালে আফসানা আক্তার (১৪) নামের এক রোগীর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগী পরিবার৷ এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে ঘটনাটি ঘটে।

 

রোগী আফসানা আক্তার শেরপুর সদর উপজেলার মোকসেদপুর এলাকার আনিসুর রহমানের মেয়ে। তার নানার বাড়ি জামালপুর পৌর শহরের কম্পপুর এলাকায়। সে নারায়নগঞ্জের রূপসী এলাকার নিউ মডেল নামের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা পেশায় একজন কৃষক।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, পেটে ব্যথার কারণে গত কয়েকদিন আগে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয় আফসানা। গতকাল অপারেশনের পর আফসানাকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে রাখা হয়। পরে বিকেলে প্রয়োজন না হলেও এবং পরিবারের বাধার পরেও একজন নার্স 'এ নেগেটিভ' ধারী আফসানার শরীরে 'ও পজিটিভ' রক্ত প্রয়োগ করে। এর কিছুক্ষণ পর বিষয়টি বুঝতে পেরে রক্ত দেওয়া বন্ধ করে দেয় নার্স। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আফসানাকে চিকিৎসা প্রদান করা শুরু করে চিকিৎসকেরা। বর্তমানে রোগীটি জ্বরে আক্রান্ত ও বমি বমি ভাব হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা আন্জু আরা বেগম জানান, চিকিৎসকরা রক্তের কোনো কথা বলেনি। আফসানার অপারেশন শেষে, পাশে আরেকজন সিজারের অপারেশনের রোগী রাখা হয়। সেই রোগীর 'ও পজিটিভ' রক্তের প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু নার্সরা অতি উৎসাহী হয়ে হঠাৎ করেই সিজারের রোগীর রক্ত আমার মেয়েকে দেয়। আধাঘণ্টা পর ৫০ মিলি মিটার রক্ত শরীরে যাওয়ার পর নজরে পড়ে সেই রক্তটি 'ও পজিটিভ।' কিন্তু আমার মেয়ের তো রক্তের গ্রুপ 'এ নেগেটিভ'। তখন রক্ত দেওয়া বন্ধ করা হয়। অথচ আমার মেয়ের রক্তের কোনো প্রয়োজন ছিলো না। এখন তার অবস্থা কিছুটা সংকটাপন্ন।

 

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, শিশুটির অ্যাপেন্ডিসাইটিস নিয়ে অপারেশন করা হয়েছিল। তাকে পোস্ট অপারেটিভ রুমে রাখা হয়। ওখানকার দায়িত্বরত সিনিয়র নার্সরা ভুলক্রমে তাকে ও পজিটিভ রক্ত দিয়ে দেয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বলা হয়। পাশাপাশি আনুষঙ্গিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

 

তিনি আরও বলেন, কর্তব্য গাফিলতির জন্য যে সমস্যা হয়েছে এটা বড় ভুল। রক্তটা যদি বেশিক্ষণ চলতো তাহলে জীবননাশের সম্ভাবনা থাকতো। আমরা সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোশায়েল হোসেন সুমনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পাবার পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ডিবিসি/ এইচএপি  

আরও পড়ুন