আন্তর্জাতিক

জার্মানিতে ১৫ রোগীকে হত্যার দায়ে চিকিৎসকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Shabbir Shawon

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জার্মানিতে পনেরো জন রোগীকে হত্যার দায়ে এক প্যালিয়েটিভ কেয়ার (প্রশমন সেবা) চিকিৎসককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বার্লিনের একটি আদালত ৪১ বছর বয়সী ওই চিকিৎসককে দোষী সাব্যস্ত করে।

জার্মানির গোপনীয়তা নীতি অনুযায়ী জোহানেস এম. নামের ওই চিকিৎসকের পুরো পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ১২ জন নারী এবং ৩ জন পুরুষকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

 

তবে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই ১৫ জন ছাড়াও আরও অনেককে হত্যা করে থাকতে পারেন তিনি। বর্তমানে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আরও ৭৬টি হত্যার অভিযোগের তদন্ত করছেন প্রসিকিউটররা। জার্মান সংবাদমাধ্যমের মতে, এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি জার্মানির ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সিরিয়াল কিলিংয়ের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

নিহত রোগীদের বয়স ছিল ২৫ থেকে ৯৪ বছরের মধ্যে। আদালতে জানানো হয়, তারা সবাই গুরুতর অসুস্থ হলেও তাদের মৃত্যু আসন্ন ছিল না। প্রসিকিউটররা জানান, বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার সময় ওই চিকিৎসক রোগীদের সম্মতি ছাড়াই বিভিন্ন ওষুধের মারাত্মক মিশ্রণ প্রয়োগ করে তাদের মেরে ফেলতেন। এমনকি নিজের অপরাধ ঢাকতে বেশ কয়েকবার তিনি রোগীদের বাড়িতে আগুন লাগানোরও চেষ্টা করেছিলেন।

 

২০২৪ সালের জুলাইয়ে গ্রেপ্তারের ঠিক আগে একদিনেই তিনি দুজন রোগীকে হত্যা করেন। এদের মধ্যে ৭৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার বাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে তিনি ব্যর্থ হন।

 

প্রায় এক বছর ধরে চলা এই বিচারের বেশিরভাগ সময়ই অভিযুক্ত চিকিৎসক নিশ্চুপ ছিলেন। তবে গত মাসে তিনি গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হত্যার কথা স্বীকার করে নেন। তিনি আদালতকে জানান, রোগীদের দীর্ঘস্থায়ী কষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতা থেকে মুক্তি দিতেই তিনি এই কাজ করেছেন এবং একেই তিনি সবার জন্য মঙ্গলজনক বলে মনে করেছিলেন। নিজের এই কাজের জন্য তিনি ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।

 

বিচারের শুরুতে নিহতদের স্বজনরা তাদের ক্ষোভ ও বেদনার কথা আদালতকে জানান। ২০২১ সালে মারা যাওয়া সবচেয়ে কমবয়সী ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীর মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তার মেয়ে কখনোই মরতে চায়নি। একইভাবে, ২০২৪ সালে নিহত ৭২ বছর বয়সী এক নারীর ছেলেও জানান, তার মায়ের বোনের সাথে বাল্টিক সাগরে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং তিনি বাঁচতে চেয়েছিলেন।

 

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত ওই চিকিৎসককে কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষেও প্রতিরোধমূলক বিশেষ নজরদারিতে আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে চিকিৎসাপেশায় আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

সূত্র: বিবিসি

 

ডিবিসি/এসএস

আরও পড়ুন