কথায় বলে, সময় ও নদীর স্রোত কারো জন্যে অপেক্ষা করেনা। একটি অধরা ও মূল্যবান সম্পদ সময় যা আমরা সবচেয়ে বেশি চাই। তবুও এটি বালির দানার মতো আমাদের আঙ্গুলের মধ্য দিয়ে পিছলে যায়। সময় ধরে রাখা যায় না একথা সত্যি, তবে ভয়ের কিছু নেই। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে জানলে দিনগুলো উপভোগ্য হবে, সময়ের অভাবে আর আফসোস করতে হবে না।
আপনার দৈনন্দিন রুটিনে ছোটখাটো পরিবর্তন এনে নিজের সেরাটুকু দিতে পারবেন। টাইম ম্যানেজমেন্ট না থাকার কারণে আমরা অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাই।
আমাদের আশেপাশে এমন অনেক লোককেই আমরা দেখি, যারা সারাদিন ব্যস্ত থাকে। তাদেরকে দেখে আমরা মনে করি তারা অনেক কাজ করে। কিন্তু বাস্তবে তাদেরকে যদি আমরা তাদের কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি তাহলে তারা বলে যে, তার এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। কারণ জিজ্ঞেস করলে সে জানায়- ‘ আমি সময় পাইনি’।
একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে রাখবেন, যে সবসময় বলে ‘আমি খুব ব্যস্ত’ আসলে সে ব্যস্ত না সে ব্যতিব্যস্ত। চলুন জেনে নেওয়া যাক, টাইম ম্যানেজমেন্টের সহজ কিছু টিপস। যেগুলো পালন করতে পারলে আপনাকে সফলতার শিখরে পৌঁছে যেতে কেউ আটকাতে পারবেনা।
‘সকাল সকাল বিছানা’ কথাটা একটু কিরকম শুনতে লাগছে তাই না? আমরা তো সকলেই সকালে উঠি। কিন্তু, খুব সকালে আমরা ক’জন উঠি? আপনি যদি সকাল ৫-৬ টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে পারেন তাহলে দিনের ২-৩ ঘন্টা অতিরিক্ত পাবেন। এই সময়ে আপনি আপনার পড়াশোনা বা কোনো গুরুত্বপূর্ন কাজ সেরে নিতে পারবেন। যা আপনাকে অন্যদের থেকে অনেক অনেক এগিয়ে রাখবে।
প্রতিদিন রাতে আগামী দিনে অর্থাৎ পরের দিন কি কি কাজ করবেন সে গুলির একটি লিস্ট করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো রাখবেন। চাইলে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজগুলো রাখতে পারেন। তবে শুধুমাত্র যে গুলি আপনার লক্ষ্য পূরন করতে সক্ষম শুধুমাত্র সেগুলোকেই রাখলে ভালো হয়।
আমাদের একটি অভ্যাস হলো, সামনে যে কাজটি আসে সেটিকেই আমরা প্রথমে করে ফেলি। ছোট ছোট অংশে ভাগ করে আমরা কাজ করি। আর এর ফাঁকেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলি পরের দিনের জন্য বাকি থেকে যায়। একজন সফল ব্যক্তি সবসময়ই তার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো প্রথমে করে। এর জন্য একটি খাতা বা ডায়েরি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং স্বাভাবিক কিছু কাজের লিস্ট করতে হবে এবং সেই লিস্টের ভিত্তিতে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে প্রথমে করতে হবে।
আপনার ফোনটি যদি হাতের কাছে থাকে, তবে অজান্তেই তা কিছুক্ষণ পরপর আপনার হাতে উঠে আসবে। কাজে ব্যাঘ্যাত ঘটানোর জন্য এই একটি জিনিসই যথেষ্ট। তাই কাজের সময় ফোন দূরে রাখুন। দূরে রাখুন এ ধরনের সবকিছুই। কম্পিউটারে কাজ করার সময় ইউটিউব, ফেসবুক বা অপ্রয়োজনীয় কিছু খুলে রাখবেন না। এতে মন বারবার সেদিকে ঝুঁকে পড়বে। ফলস্বরূপ আপনার কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই কাজের সময় কাজটাকেই প্রাধান্য দিন। গভীরভাবে কাজে ডুব দিন। সুফল পাবেন।
পোমোডোরো টেকনিক হলো টাইম ম্যানেজমেন্টের বস। ২৫ মিনিট টানা কাজের পরে ৫ মিনিটের বিরতি নেওয়াই হলো এই পদ্ধতির মূল বিষয়। এতে কাজে একাগ্রতা বাড়ে। বিরতির ৫ মিনিট আপনাকে আরও বেশি সতেজ করে, শক্তির মাত্রা বাড়ায় এবং ক্লান্তি দূরে রাখে। এটি আপনার মস্তিষ্কের জন্য ছোট অবকাশের মতো, যা আপনাকে নতুন করে মনোযোগসহ আপনার কাজে ফিরে যেতে দেয়।
সবাই ‘না’ বলতে পারে না। কিন্তু আপনাকে এটি শিখতে হবে। আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন বিষয়কে অবশ্যই ‘না’ বলতে শিখতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার সময় মূল্যবান। অপ্রয়োজনীয় জিনিসকে ‘না’ বললে আপনি সত্যিকার অর্থে গুরুত্বপূর্ণ সবকিছুকে ‘হ্যাঁ’ বলতে পারবেন। দৃঢ়তার সঙ্গে ‘না’ বলতে শিখুন তবে রূঢ় আচরণ করবেন না। ভদ্রভাবে ‘না’ বলুন। ফিরিয়ে দিলেও সুন্দরভাবে ফিরিয়ে দিন।
দিনের বিভিন্ন কাজকে ধরন অনুযায়ী ভাগ করে নিন। এটি টাইম ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতির অন্যতম অংশ। এই পদ্ধতি সঠিকভাবে আপনার কাজগুলো সম্পাদন করতে সাহায্য করবে। বিভিন্ন দায়িত্বের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখলে তা আপনার কর্মক্ষমতা এবং দক্ষতা বাড়াতে কাজ করবে। এই পদ্ধতি আপনাকে মনোযোগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে সাহায্য করবে। সেইসঙ্গে জীবনেও ভারসাম্য আনবে।
কোনো কাজ শুরু করার আগে আপনি স্টপ ওয়াচ অন করতে পারেন। এতে কাজটি শেষ করতে ঠিক কতক্ষণ সময় লাগছে সেটি বুঝতে পারবেন। এইভাবে আপনি আপনার কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা করে রাখবেন। এমনটা করলে পরবর্তীতে আপনি আপনার কাজের স্পিড বা গতি বাড়াতে পারবেন।