আন্তর্জাতিক, এশিয়া

জুমার নামাজে না গেলে ২ বছরের দণ্ড, মালয়েশিয়ার এক রাজ্যের নতুন আইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

মঙ্গলবার ১৯শে আগস্ট ২০২৫ ০৭:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু রাজ্যে কোনো মুসলিম পুরুষ উপযুক্ত কারণ ছাড়া জুমার নামাজ না পড়লে তাকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা বড় অঙ্কের জরিমানা করা হতে পারে। শরিয়াহ আইনের অধীনে এই নতুন বিধান জারি করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ই আগস্ট) রক্ষণশীল প্যান-মালয়েশিয়ান ইসলামিক পার্টি (পিএএস) শাসিত তেরেঙ্গানু রাজ্যের কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, শরিয়াহ ক্রিমিনাল অফেন্সেস (তাকজির) এনাক্টমেন্ট আইনের অধীনে এখন থেকে কেউ জুমার নামাজ না পড়লে তাকে ৩,০০০ মালয়েশিয়ান রিংগিত (প্রায় ৫২৫ পাউন্ড) পর্যন্ত জরিমানা, কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডই দেওয়া হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট এর এক প্রতিবেদন থেকে এ সকল তথ্য জানা যায়।

 

তেরেঙ্গানু রাজ্য নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ খলিল আবদুল হাদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, একবার জুমার নামাজ না পড়লেও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে। এর আগে, টানা তিনবার জুমার নামাজে অনুপস্থিত থাকলেই কেবল শাস্তির বিধান ছিল।

 

মালয়েশিয়ার সংবাদপত্র বেরিতা হারিয়ান-কে তিনি বলেন, ‘এই সতর্কতাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জুমার নামাজ শুধু একটি ধর্মীয় প্রতীকই নয়, এটি মুসলিমদের আনুগত্যেরও প্রকাশ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যারা এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করবে, তাদের বারবার সতর্ক করার পরও যদি তারা না শোনে, তবে শেষ পদক্ষেপ হিসেবে শাস্তি দেওয়া হবে।’

 

জনসচেতনতা বাড়াতে মসজিদগুলোতে ব্যানার টানানো হবে এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ বা টহলদারির মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

 

এই পদক্ষেপটি মালয়েশিয়ায় পিএএস দলের কঠোর ইসলামি আইন প্রয়োগের বৃহত্তর প্রচেষ্টারই একটি অংশ। পিএএস মালয়েশিয়ার সংসদে বৃহত্তম দল এবং দেশের ১৩টি রাজ্যের মধ্যে চারটিতে ক্ষমতাসীন। দলটি দীর্ঘদিন ধরে কঠোর ধর্মীয় শাস্তির পক্ষে কথা বলে আসছে এবং অতীতে চুরির জন্য অঙ্গচ্ছেদ ও ব্যভিচারের জন্য পাথর নিক্ষেপের মতো হুদুদ আইন চালুরও চেষ্টা করেছিল।

 

এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। আইনজীবী আজিরা আজিজ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, ‘ইসলামে কোনো জবরদস্তি নেই বলা হলেও, এই আইনটি প্রমাণ করে তেরেঙ্গানুর পুরুষরা কতটা কম জুমার নামাজ পড়েন।" তিনি আরও বলেন, "জুমার নামাজ যে ওয়াজিব, তা নিয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করে না। কিন্তু এটিকে আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে অপরাধ গণ্য করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। সচেতনতামূলক কর্মসূচিই যথেষ্ট ছিল।’

 

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় একটি দ্বৈত আইন ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে, যেখানে মুসলিমদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়গুলো শরিয়াহ আইনের অধীনে পড়ে এবং এর পাশাপাশি বেসামরিক আইনও কার্যকর। দেশটির ৩৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মালয় মুসলিম।

 

গত বছরের নভেম্বরে, জোহর রাজ্যের শীর্ষ ইসলামি কর্মকর্তারাও ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তারা মুসলিম পুরুষদের জুমার নামাজে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

 

এর আগে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মালয়েশিয়ার শীর্ষ আদালত কেলান্তান রাজ্যের এক ডজনেরও বেশি শরিয়াহ-ভিত্তিক আইন বাতিল করে দেয়, যা ইসলামপন্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তাদের আশঙ্কা, এই রায় সারা দেশে ধর্মীয় আদালতকে দুর্বল করে দেবে।

 

ডিবিসি/এনএসএফ

আরও পড়ুন