ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবাহী গ্রাফিতি সংরক্ষণে রংকরণ ও পুনর্লিখন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এতে অংশ নিচ্ছেন চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ, প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং, আরবরি কালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, গ্রাফিতির মূল বৈশিষ্ট্য, চেতনা ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য অক্ষুণ্ন রেখে ১ থেকে ৩ আগস্ট তিনদিনব্যাপী উপাচার্য ভবন থেকে রোকেয়া হল পর্যন্ত বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি রংকরণ ও পুনর্লিখনের কাজ চলবে। এ কর্মসূচিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলো পতিত সরকারের দুঃশাসনের স্মারক এবং দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান, নির্যাতন-নিপীড়ন এবং মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এসব গ্রাফিতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হয়তো থাকব না, কিন্তু বাংলাদেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী বেঁচে থাকবে। এই গ্রাফিতির মাধ্যমে মানুষ রক্তমাখা সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করবে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনা ধারণ করবে।’ একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন