অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান প্রশাসন আইনি বিচার ব্যবস্থায় পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখে বলেই জুলাই বিপ্লবের পর থেকে দেশে কোনো ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেনি। একইসঙ্গে দেশ থেকে গুম ও মিথ্যা মামলার সংস্কৃতিও বন্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউসে এক মতবিনিময় সভায় এবং নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু সাবার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি এলাকায় সাড়ে তিন বছরের শিশু সাইমা আক্তার সাবার নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই শিশু হত্যার ন্যায়বিচার রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। এ সময় তিনি প্রশাসনকে সঠিক তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্তে কোনো প্রকার গাফিলতি হলে বা কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে, কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে নিহত শিশু সাবার বাবা সাইদুল ইসলামকে সান্ত্বনা দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি জানান, মামলার বিচারে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করা হবে। এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাবার বাবাকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়াসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচারবিভাগীয় প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে বাড়ির পাশে খেলার সময় নিখোঁজ হয় ভ্যানচালক সাইদুল ইসলামের শিশুকন্যা সাবা। দিনভর খোঁজাখুঁজির পর রাতে প্রতিবেশী শান্তনা খাতুনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা তার ঘরে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে খাটের নিচে শিশুটির মরদেহ পাওয়া গেলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত শান্তনা খাতুনকে আটক করে।
ডিবিসি/এমএআর