জেলার সংবাদ

মৌলভীবাজারে জুয়ায় হেরে নিজেকে জখম করে ছিনতাইয়ের নাটক সাজান সিএনজিচালক

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

অনলাইন জুয়ার নেশায় পরিবারের প্রায় ১ লাখ টাকা হারিয়ে ফেলেছিলেন এক সিএনজি অটোরিকশাচালক। সেই টাকা গায়েব হওয়ার কারণ আড়াল করতে নিজের শরীরে নিজেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ছিনতাইয়ের নাটক সাজান তিনি। তবে মৌলভীবাজারের রাজনগর থানা পুলিশের নিবিড় তদন্তে ভেঙে যায় সেই সাজানো গল্প। জিজ্ঞাসাবাদে শেষ পর্যন্ত পুরো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন ওই ব্যক্তি।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে এটি একটি পরিকল্পিত সাজানো ঘটনা বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, গত ২১ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের হালদার গ্রামের বাসিন্দা সুজন মিয়া (২৬) দাবি করেন, তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করে।

 

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ সুজন মিয়ার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বললে তার বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে গ্রামের পরিচিত ব্যক্তি ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে তার শরীরের আঘাতের ধরন এবং পরিহিত পোশাক পরীক্ষা করে পুলিশের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। তদন্তে প্রতীয়মান হয়, আঘাতগুলো কোনো ছিনতাইকারীর নয়, বরং তিনি নিজেই ধারালো বস্তু দিয়ে সেগুলো করেছেন।

 

নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সুজন মিয়া স্বীকার করেন, তিনি একটি অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মে পরিবারের প্রায় ১ লাখ টাকা হারিয়ে ফেলেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছে গোপন রাখতে তিনি পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের নাটক সাজান। ঘটনাকে বাস্তবসম্মত দেখাতে একটি নেইল কাটারের ছোট ছুরি ব্যবহার করে নিজের শরীরে একাধিক আঘাত করেন।

 

পুলিশ আরও জানায়, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি আগে থেকেই এক বন্ধুকে জানিয়ে রাখেন যে, তিনি রাস্তার পাশে আহত অবস্থায় পড়ে থাকবেন। স্থানীয় লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে ওই বন্ধুকে ফোন করলে তিনি এসে উদ্ধার করার অভিনয় করবেন।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী তার বন্ধু মেদিনীমহল এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। পরে স্থানীয়দের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তদন্তে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হওয়ার পর সুজন মিয়া নিজের সাজানো নাটকের বিষয়টি স্বীকার করেন।

 

পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। মিথ্যা ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন