জামালপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রবেশ করে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে।
গত মঙ্গলবার রাতে শহরের শফি মিয়ার বাজারের জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (৩রা এপ্রিল) একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সবার নজরে আসে।
দলের নেতাকর্মীরা জানান, গত মঙ্গলবার রাতে জেলা কৃষকলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দীনসহ কয়েকজনকে নিয়ে বিএনপির জেলা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক। এ সময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথাবার্তা বলেন তিনি। এক পর্যায়ে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন এবং দলীয় নেতাদেরকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। পরে তিনি চলে গেলে দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক জানান, জেলা বিএনপির কার্যালয় আমাদের মালিকানা সম্পত্তি। অনেকদিন থেকে ভাড়া দেয়না, এক কোটি বিশ লাখ টাকা ভাড়া বাকি আছে। আমার ছেলে বাবু ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে রেদুয়ানসহ আরও কয়েকজন বাবুকে মারধর করেছে। আমার ওপরও হামলা হতে পারে, তাই নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র নিয়ে গেছি। তারা আমার জায়গা জোর করে দখল করে আছে।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো: ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, জেলা বিএনপির কার্যালয় সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হকের। উনি এক সময় অফিস পরিচালনা করতেন এখন আমরা পরিচালনা করি। আমাদের চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করা আছে। উনি যদি আমাদের অফিস ভাড়া না দেন তাহলে আমরা সেখানে থাকবো না। আর অফিস ছেড়ে দেয়ার জন্য সময় বা নোটিশ দিতে হবে। কিন্তু উনি যে প্রক্রিয়ায় অফিস বন্ধ করতে গেছেন, আমার মনে হয় প্রক্রিয়াটা সঠিক নয়।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফয়সল মো: আতিক জানান, অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি শুনেছি। এটি বিএনপির দুই প্রুপের বিষয়। তারা নিজেরা বসে মিমাংসা করবে শুনেছি। এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ১৯৯১ সালে জামালপুর-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় স্বাস্থ্য উপমন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
ডিবিসি/কেএলডি