যুদ্ধ বন্ধের নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার কিয়েভে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পরও ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে মূল বিষয়গুলো নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। কিয়েভে পৌঁছানোর এক দিন আগে মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এই মার্কিন প্রতিনিধিরা। পুতিন তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন।
মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে আঞ্চলিক ছাড় দেওয়ার বিষয়টি। জ্যারেড কুশনার এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন বলে উল্লেখ করে জানান, একটি চুক্তির পরিবেশ তৈরির জন্য তারা পর্দার আড়ালে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিয়েভে তিন দফায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারাও অংশ নেন। বৈঠক শেষে জেলেনস্কি জানান, আলোচনা মূলত সামরিক সহায়তা, প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম এবং শীতকালীন সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও সামরিক প্যাকেজের ওপর কেন্দ্র করে হয়েছে। তিনি আরও জানান, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তাদের বড় অংকের মার্কিন ও ইউরোপীয় সহায়তা প্রয়োজন হবে।
এদিকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে মস্কোর বৈঠকটিকে গঠনমূলক ও দরকারী বলা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো ফলাফলের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, দনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মতো জটিল বিষয়গুলোর কারণে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধ সহজে থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যেই দুই পক্ষই সংঘাত আরও তীব্র করেছে এবং ইউক্রেন আশঙ্কা করছে যে আসছে শীতে রাশিয়া তাদের বিমান হামলা আরও বাড়াতে পারে।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে
ডিবিসি/এসভিএন