গাজীপুরে জোড়া চোয়াল নিয়ে জন্ম নেওয়া এক কন্যাশিশুকে ঘিরে চরম বিপাকে পড়েছিল একটি দরিদ্র পরিবার। বিরল এই শারীরিক জটিলতার কারণে শিশুটি মুখ খুলতে বা স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করতে পারছে না। গার্মেন্টস কর্মী বাবার পক্ষে মেয়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে ডিবিসি নিউজে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রচারের পর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন শিশুটির সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। বিস্তারিত প্রতিবেদনে।
গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়নের বি-কে বাড়ির বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও দিলরুবা আক্তারের ঘরে গত এপ্রিলে জন্ম নেয় কন্যাশিশু হাবিবা। বিয়ের এক বছর পর প্রথম সন্তানের আগমনে পরিবারে আনন্দের জোয়ার এলেও, তা দ্রুতই বিষাদে রূপ নেয়। জন্মের পরপরই ধরা পড়ে হাবিবার বিরল শারীরিক জটিলতা। জন্মগতভাবেই তার দুই মাড়ি ও চোয়াল একসাথে লেগে থাকায় সে মুখ খুলতে পারছে না।
মুখ দিয়ে খাবার গ্রহণ সম্ভব না হওয়ায়, জন্মের পর থেকেই চলছে কঠিন সংগ্রাম। শিশুটির মা বুকের দুধ সিরিঞ্জের মাধ্যমে নাকের নল দিয়ে খাওয়াচ্ছেন। একদিকে অবুঝ সন্তানের নিদারুণ কষ্ট, অন্যদিকে আর্থিক অসহায়ত্ব-সব মিলিয়ে চরম দিশেহারা হাবিবার পরিবার।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার করালে হাবিবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। কিন্তু এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। পেশায় গার্মেন্টস কর্মী বাবা হাবিবুর রহমানের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব। অর্থাভাবে সন্তানের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করাতে পারছিলেন না বাবা-মা। তিন ছেলের পর বড় ছেলের ঘরে কাঙ্ক্ষিত কন্যা সন্তানের এমন পরিণতিতে কান্না থামছে না দাদিরও।
অসহায় পরিবারটির এই লড়াই নিয়ে ডিবিসি নিউজে সংবাদ প্রচারের পর অবশেষে আশার আলো দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন বিরল এই রোগে আক্রান্ত হাবিবার পাশে দাঁড়িয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন সহযোগিতায় ছোট্ট হাবিবা দ্রুতই সুস্থ হয়ে বাবা-মায়ের কোলে স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসবে, এখন এটিই একমাত্র প্রত্যাশা স্বজন ও এলাকাবাসীর।
ডিবিসি/পিআরএএন